20 C
Kolkata
March 22, 2026
দেশ

রোহিনীতে দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে ও ইউইআর-টু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার রাজধানী দিল্লির রোহিনীতে উদ্বোধন করলেন দু’টি বৃহৎ সড়ক অবকাঠামো প্রকল্প— আর্বান এক্সটেনশন রোড-টু (UER-II) এবং দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের দিল্লি অংশ। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন হয়েছে কেন্দ্রের দিল্লি যানজট কমানোর সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়করি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি।

উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী দিল্লির মুন্ডকা-বক্কারওয়ালা ভিলেজ টোল প্লাজা এলাকায় রোড শো করেন এবং দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে যুক্ত শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী দফতরের (PMO) বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্প দুটি চালু হলে দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে, ভ্রমণের সময় কমবে এবং যানজটও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে এগুলি প্রধানমন্ত্রীর সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরি করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজতর করা এবং চলাচল নির্বিঘ্ন করা প্রধান লক্ষ্য।

আর্বান এক্সটেনশন রোড-টু (UER-II):
৭৫.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার মধ্যে প্রায় ৫৪ কিমি দিল্লির ভেতরে এবং ২১.৫০ কিমি হরিয়ানার মধ্যে পড়ে। মোট ৬,৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পটির পাঁচটি ধাপের মধ্যে চারটিই আজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। এটিকে কার্যত দিল্লির তৃতীয় রিং রোড হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের দিল্লি অংশ:

১০.১ কিমি দীর্ঘ এই রাস্তার মধ্যে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ টানেল, যা সরাসরি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। প্রায় ৫,৩৬০ কোটি টাকায় তৈরি হওয়া এই অংশটি রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এর ফলে মেট্রো নেটওয়ার্ক, যশোবূমি কনভেনশন সেন্টার, বিজওয়াসন রেলস্টেশন ও দ্বারকা বাস ডিপোর সঙ্গে সহজে যোগাযোগ সম্ভব হবে।
এই দু’টি প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে দিল্লির রিং রোড, মুকারবা চক, ধৌলা কুয়াঁর মতো যানজটপূর্ণ জায়গাগুলির চাপ কমবে। পাশাপাশি সোনিপত, রোহতক এবং গুরগাঁওয়ের মতো এলাকাগুলি থেকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। শুধু তাই নয়, ইউইআর-টু তৈরির ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পদার্থ পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও নজির স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই যুগল প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। উন্নত যোগাযোগ, যানজট হ্রাস, দূষণ কমানো এবং দ্রুত যাতায়াত—সব মিলিয়ে রাজধানীকে বিশ্বমানের শহর হিসেবে গড়ে তোলার পথে এই প্রকল্পগুলো হবে মাইলস্টোন।

Related posts

Leave a Comment