দিল্লি, ১৯ ফেব্রুয়ারি: টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার নিয়ে ইমপ্যাক্ট সামিটে আয়োজিত প্রধান নির্বাহীদের গোলটেবিল বৈঠকে স্পষ্ট অভিন্ন অঙ্গীকার উঠে এসেছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ও শিল্পক্ষেত্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই বৈঠকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা অংশ নেন। আলোচনা হয় কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নগর পরিকাঠামো উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা নিতে পারে। মোদীর কথায়, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি আগামী দিনের উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।’
তিনি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এমন এক উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলা যেখানে প্রযুক্তির অগ্রগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং নবীন উদ্ভাবকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী শিল্পপতিরা জানান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তা ও নৈতিক ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, প্রযুক্তির ব্যবহার যেন স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও মানবিক হয়, সে বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মোদী আরও বলেন, ভারত ইতিমধ্যেই ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সমাধানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এখন লক্ষ্য। তাঁর মতে, সরকার, শিল্পক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই গোলটেবিল বৈঠক ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রযুক্তি ও উন্নয়নকে একসূত্রে গাঁথার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
