২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ১৫০.৪১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করে দেশের এক নম্বর প্রধান বন্দরের স্বীকৃতি পেল ওড়িশার পারাদীপ বন্দর। পারাদীপ পোর্ট অথরিটির (পিপিএ) আধিকারিকরা শুক্রবার জানান, এই সাফল্যের মাধ্যমে বন্দরটি জাতীয় মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
২৮৯ মিলিয়ন টন বার্ষিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই বন্দরে শিল্পক্ষেত্রে শীর্ষ উৎপাদনশীলতা বজায় রয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক হিসেবে ১,৮৬০ কোটি টাকার নেট উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে পারাদীপ বন্দর। প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে জাহাজ ও কার্গো চার্জও এখানে সবচেয়ে কম বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিন রাজ্যের মুখ্যসচিব অনু গর্গ পারাদীপ পোর্ট অথরিটি পরিদর্শন করে বন্দরের কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন। ২০৩৬ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যপূরণের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। রফতানি, জাহাজ নির্মাণ এবং বন্দরনির্ভর উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিগুণ অঙ্কের প্রবৃদ্ধির উপর জোর দেন।
তিনি ‘পারাদীপ পোর্ট ২.০’ ভাবনার গুরুত্ব তুলে ধরে ৫০০ এমটিপিএ-র বেশি ক্ষমতা বৃদ্ধি, ওয়েস্টার্ন ডকের গভীরতা বৃদ্ধি এবং গ্রিন হাইড্রোজেনের জন্য বিশেষ বার্থ গড়ে তোলার কথা বলেন।
গঞ্জাম জেলায় প্রস্তাবিত ১৫০ এমটিপিএ বহুদা বন্দর এবং কেন্ড্রাপাড়া জেলায় মহানদীর উত্তরে ১.২ মিলিয়ন জিটি ক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত ক্লাস্টার নিয়েও আলোচনা হয়। ওড়িশা সরকার ও পারাদীপ পোর্ট অথরিটির যৌথ উদ্যোগে স্পেশাল পারপাস ভেহিকলের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুরীতে ক্রুজ টার্মিনাল গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল, আবাসন, পর্যটন ও নগর অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের উপর জোর দেন মুখ্যসচিব। খনিজ নির্ভরতা ছাড়িয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, বিরল মৃত্তিকা প্রক্রিয়াকরণ, বিমান ও পর্যটন খাতে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
