27 C
Kolkata
March 4, 2026
দেশ

National Federation of Indian Women-এর দাবি: কর্নাটকে প্রাক্তন দেবদাসীদের পুনঃসমীক্ষা সম্পূর্ণ ও ন্যায়সংগতভাবে চালু থাকুক

বেঙ্গালুরু, ৪ মার্চ: কর্নাটকে প্রাক্তন দেবদাসীদের পুনঃসমীক্ষা (রি-সার্ভে) প্রক্রিয়া যেন পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে চালিয়ে যাওয়া হয়—এই দাবি জানাল ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেন (এনএফআইডব্লিউ)-এর রাজ্য শাখা।

দেবদাসী প্রথা দীর্ঘদিন ধরে দেশের কিছু অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক, বিশেষত দলিত নারীদের উপর এই প্রথা চরম শোষণ ডেকে এনেছিল বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি। আইনি ভাবে প্রথাটি বিলুপ্ত হলেও, তার প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট শোষণ এখনও কিছু এলাকায় বিদ্যমান রয়েছে বলে অভিযোগ।

পুনঃসমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

এনএফআইডব্লিউ-র রাজ্য সভাপতি জ্যোতি এ. দাবি করেন, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী Laxmi Hebbalkar ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী Siddaramaiah-এর কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেন। সেখানে বলা হয়েছে, পুনঃসমীক্ষায় ২৩,৩৯৫ জন মহিলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ২০০৭–০৮ সালের সমীক্ষায় সংখ্যা ছিল ৪৬,৬৬০।

জ্যোতির অভিযোগ, রাজ্যস্তরের মনিটরিং ও পুনর্মূল্যায়ন কমিটির একটি বৈঠকও না করেই এই সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, “সমাজের সবচেয়ে নিপীড়িত নারীদের ক্ষেত্রে এত গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা যদি ন্যায়সংগত না হয়, তা মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও জানান, আগের তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম এবং নতুন সংযোজনের বহু আবেদন এখনও অনুমোদিত হয়নি। বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার প্রকৃত দাবিদার রয়েছেন বলে সংগঠনের দাবি।

সচেতনতার অভাব ও নথি জটিলতা

সংগঠনের অভিযোগ, বহু জেলায় তহসিল ও জেলা স্তরের পর্যবেক্ষণ বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে না। পুনঃসমীক্ষা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা কর্মসূচির অভাবে অনেক প্রাক্তন দেবদাসী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন।

এছাড়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করতেও অনেকের সমস্যা হচ্ছে। কর্নাটক মহিলা উন্নয়ন কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সংগঠনের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সংগঠনের আরও দাবি, পুনঃসমীক্ষায় বয়সসীমা আরোপ করা উচিত নয়, কারণ এখনও কিছু এলাকায় প্রথাটি সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি

এনএফআইডব্লিউ-র অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়নের সময় কিছু অ-দেবদাসী মহিলার নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, আবার প্রকৃত ও যোগ্য অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের বক্তব্য, অসম্পূর্ণ রিপোর্টের ভিত্তিতে পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা উচিত নয়। বরং সমস্ত প্রকৃত ও যোগ্য ভুক্তভোগী এবং তাঁদের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগতভাবে পুনঃসমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

Related posts

Leave a Comment