কলকাতা — নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি জড়িয়ে থাকা একটি টুপিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু (Chandra Kumar Bose) দাবি করেছেন, দিল্লির লাল কেল্লায় থাকা নেতাজি জাদুঘরে (Netaji Museum Red Fort) বর্তমানে যে টুপিটি প্রদর্শিত হচ্ছে সেটি আদৌ আসল কি না তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। তিনি এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে চন্দ্রকুমার বসু অভিযোগ করেছিলেন, নেতাজির পরিবারের তরফে দেওয়া ঐতিহাসিক টুপিটি জাদুঘরের কাচঘেরা প্রদর্শনী কেস থেকে হঠাৎই উধাও হয়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি দ্রুতই আলোচনায় আসে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) কাছে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।
এরপর তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর টুপিটি আবার জাদুঘরে রাখা হয়েছে। তবে যাঁরা আগে টুপিটি দেখেছেন এবং নেতাজি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন, তাঁদের অনেকের মতে বর্তমানে প্রদর্শিত টুপিটি আগেরটির থেকে কিছুটা আলাদা দেখাচ্ছে।
চন্দ্রকুমার বসু লিখেছেন, ‘নেতাজি গবেষক এবং যাঁরা আগে এই টুপিটি দেখেছেন তাঁদের অনেকেরই মনে হচ্ছে এটি সম্ভবত আসল টুপি নয়।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে নেতাজির পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Subhas Chandra Bose) ব্যবহৃত ওই টুপিটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে তুলে দেন। তাঁদের অনুরোধ ছিল, টুপিটি যেন লাল কেল্লার নেতাজি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। সেই বছর নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে জাদুঘর উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে টুপিটি কাচের বাক্সে রেখে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ‘ওপেন প্ল্যাটফর্ম ফর নেতাজি’ (Open Platform for Netaji) নামে একটি সংগঠনের এক সদস্য জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন যে টুপিটি তার নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। এরপরই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে এবং নেতাজির পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে তদন্তের দাবি জানায়।
চন্দ্রকুমার বসু বলেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে তাঁর মতে, বর্তমানে জাদুঘরে যে টুপিটি রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই নেতাজির ব্যবহৃত টুপি কি না তা নিশ্চিত করতে যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক যাচাই অত্যন্ত জরুরি।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্মারকই ঐতিহাসিক মূল্য বহন করে। তাই এই টুপিটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের সত্যতা দ্রুত সামনে আনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
