নেপালের গোরখা জেলায় (Gorkha Nepal) ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাত ভারতীয় তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মানকামনা মন্দির (Manakamana Temple) দর্শন করে ফেরার সময় একটি বৈদ্যুতিক মাইক্রোবাস গভীর খাদে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ (Nepal Police)।
গোরখা জেলা পুলিশ দপ্তরের আধিকারিক রাজ কুমার শ্রেষ্ঠ (Raj Kumar Shrestha) জানিয়েছেন, শহিদ লক্ষণ গ্রামীণ এলাকার কান্তার অঞ্চলে মাইক্রোবাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই কয়েক জনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত সাত জন জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চিতওয়ান জেলার ভরতপুরে অবস্থিত একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং উদ্ধারকাজও চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান তুলসি বাহাদুর শ্রেষ্ঠ (Tulasi Bahadur Shrestha) জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত মাইক্রোবাসটিতে এক ডজনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। মন্দির দর্শন শেষ করে তাঁরা তানাহুন জেলার আনবুখাইরেনি (Anbukhaireni Tanahun) এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের শেষ গন্তব্য কোথায় ছিল তা এখনও পরিষ্কার নয়।
পুলিশের বক্তব্য, পাহাড়ি রাস্তার একটি খাড়া অংশে চলার সময় মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত বছর আগস্ট মাসেও আনবুখাইরেনি এলাকায় ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। সেই ঘটনায় অন্তত সাতাশ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
নেপালে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। যানবাহনের সংখ্যা বাড়া, পাহাড়ি রাস্তার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিকে এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও নেপালে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ এবং পথচারীরা।
