নদিয়া, ২০ ফেব্রুয়ারি : কয়েক ঘণ্টা আগেই শ্মশানে বাবার মুখাগ্নি করেছেন। তবু মানসিক আঘাত সামলে নির্ধারিত সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির গড়লেন নদিয়ার হরিণঘাটার ১৮ বছরের স্বস্তিক দাস। তরুণের এই মানসিক দৃঢ়তায় কুর্নিশ জানিয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীরা।
শুক্রবার হরিণঘাটার পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দেন সদ্য পিতৃহারা স্বস্তিক। তিনি বিরহী নেতাজি বিদ্যাভবন কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষা দিচ্ছেন। হরিণঘাটা পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দপুরের বাসিন্দা স্বস্তিক আনন্দপুর হাই স্কুলের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র। এ বছর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
বুধবার সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন স্বস্তিকের বাবা সুদীপ দাস। চিকিৎসকদের সব চেষ্টার পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। বাবার পারলৌকিক ক্রিয়া শেষ করে সাদা কাছা পরেই শুক্রবার পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যান স্বস্তিক।
পরীক্ষাকেন্দ্রে তাঁকে দেখে সহপাঠীদের অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরীক্ষা
দিয়ে বেরিয়ে স্বস্তিক জানান, পরীক্ষা মোটের উপর ভালই হয়েছে। তাঁর কথায়,
“বাবা আর ফিরে আসবেন না, জানি। কিন্তু বাবা সব সময় চাইতেন আমি পরীক্ষায় ভাল ফল করি, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হই। বাবার ইচ্ছাপূরণ করতেই পরীক্ষা দিচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বাকি পরীক্ষাগুলিও ভালভাবে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। স্বস্তিকের এই দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শিক্ষকমহল।
