মেসি কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল একটি হাতে লেখা পদত্যাগপত্র। চিঠিটি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্র বলে দাবি করা হলেও, সেটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বানান ভুলে ভরা, স্বাক্ষরহীন এই চিঠি আদৌ ক্রীড়ামন্ত্রীর লেখা কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।
ভাইরাল হওয়া চিঠিতে ক্রীড়ামন্ত্রীর নাম ও দপ্তরের উল্লেখ থাকলেও, কোথাও তাঁর স্বাক্ষর নেই। তারিখ ও বক্তব্যের ভাষা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। চিঠির বিভিন্ন লাইনে অসংলগ্ন বাক্য, একাধিক বানান বিভ্রাট এবং শব্দ ব্যবহারে অসামঞ্জস্য নজরে এসেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন একটি চিঠি লেখা আদৌ সম্ভব কি না।এই চিঠিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একাংশ ব্যবহারকারী ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করছেন। তাঁদের দাবি, বানান ভুলে ভরা চিঠি যদি সত্যিই মন্ত্রীর লেখা হয়, তা হলে বিষয়টি উদ্বেগজনক। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের বক্তব্য, এটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। তাঁদের মতে, মেসি কাণ্ডে সরকারকে কোণঠাসা করতে না পেরে এখন ভুয়ো চিঠি ছড়িয়ে একজন মন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।রাজনৈতিক মহলেও এই চিঠি ঘিরে চাপা উত্তেজনা।
বিরোধী শিবিরের দাবি, যদি চিঠিটি আসল হয়, তা হলে অবিলম্বে সরকারকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে ক্রীড়ামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না। আর যদি চিঠিটি ভুয়ো হয়, তা হলে কারা এই ধরনের স্বাক্ষরহীন নথি তৈরি করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।তৃণমূলের অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। দলের একাংশ নেতার মতে, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক কোনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এমন অস্পষ্ট ও অনানুষ্ঠানিক চিঠির কোনও গুরুত্ব নেই। তাঁরা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, ক্রীড়ামন্ত্রী পদত্যাগ করেননি এবং সরকারিভাবে এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়নি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেসি কাণ্ডের পর রাজ্য রাজনীতিতে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে, এই চিঠি সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বাক্ষরহীন, বানান ভুলে ভরা একটি চিঠিকে সামনে এনে বিতর্ক উসকে দেওয়া হলেও, সরকারিভাবে কোনও স্বীকৃতি না থাকায় এটি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ক্রীড়ামন্ত্রীর নামে ছড়িয়ে পড়া এই হাতে লেখা পদত্যাগপত্র আপাতত রহস্যই রয়ে গেল। আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দপ্তরগত স্পষ্টীকরণ না আসা পর্যন্ত, মেসি কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এই নতুন বিতর্ক যে রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে আরও আলোড়ন তুলবে, তা বলাই যায়।
