প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাপান সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেল। টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে যে সব চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি বিনিময় হয়েছে, তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল উচ্চ-গতির রেল প্রকল্প, মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা এবং বিপুল অঙ্কের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ।মোদী জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনে যাত্রা করেন।
যাত্রাপথে তিনি ভারতীয় চালকদের সঙ্গে কথা বলেন, যারা জাপানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন পরিষেবার জন্য। মোদীর সেই সফর ও ছবিগুলি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।মহাকাশ গবেষণায়ও নতুন অধ্যায় খুলল। ভারতের ইসরো এবং জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাক্সা যৌথভাবে কাজ করবে আসন্ন চন্দ্রযান-৫ মিশনে।
২০২৭ বা ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণ লক্ষ্য ধরে এগোচ্ছে প্রকল্পটি। সবচেয়ে বড় চমক—এই মিশনের রোভার হবে প্রায় ২৫০ কেজি ওজনের, যা চন্দ্রযান-৩-এর রোভারের তুলনায় দশগুণ ভারী।অর্থনৈতিক দিক থেকেও ঐতিহাসিক ঘোষণা হয়েছে। জাপান আগামী এক দশকে ভারতীয় বাজারে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। সেমিকন্ডাক্টর, রেয়ার আর্থ, নবায়নযোগ্য শক্তি ও ডিজিটাল প্রযুক্তি সহ নানা খাতে এই বিনিয়োগ করা হবে।
মোদীর কথায়, ভারত-জাপান সম্পর্ক আজ বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম স্তম্ভ। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু অর্থনীতি ও প্রযুক্তির দিক থেকেই নয়, ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
