নিজস্ব প্রতিনিধি, দিসপুর — আসামে বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে চা-বাগানে গিয়ে প্রতীকী কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ডিব্রুগড়ের একটি চা-বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন, নিজে চা পাতা তোলেন এবং ছবি তোলেন। তবে এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
মোদী দাবি করেছেন, ‘চা আসামের আত্মা’ এবং চা-বাগানের শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। তবে তৃণমূলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র প্রতীকী কর্মসূচি দিয়ে বাস্তব সমস্যার সমাধান হয় না। দীর্ঘদিন ধরেই চা-বাগানের শ্রমিকরা কম মজুরি, জমির অধিকার এবং পরিকাঠামোর অভাবের মতো সমস্যায় ভুগছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসামের রাজনীতিতে চা-বাগান একটি বড় ভোটব্যাঙ্ক। রাজ্যের প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ মানুষ এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রায় ৪০টি আসনে তাঁদের প্রভাব রয়েছে। ফলে ভোটের আগে এই সম্প্রদায়ের মন জয় করতে রাজনৈতিক দলগুলি বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
তৃণমূলের বক্তব্য, শুধু ভোটের আগে চা পাতা তোলা বা ছবি তোলার মাধ্যমে শ্রমিকদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হলেও, বাস্তবে তাঁদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রাস্তাঘাটের মতো মৌলিক পরিকাঠামো এখনও অনেক জায়গায় অপর্যাপ্ত।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে এই সফর নিছকই কৌশল। চা-বাগানের শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান না হলে এই প্রতীকী উদ্যোগে স্থায়ী পরিবর্তন আসবে না।
