১২৭ বছর পর দেশে ফিরল পবিত্র ঐতিহ্য
নয়াদিল্লি— শনিবার নয়াদিল্লির রাই পিথোরা সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণে ভগবান বুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত পিপরাহওয়া পবিত্র ধাতু ও রত্নের গ্র্যান্ড আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১২৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন করল ভগবান বুদ্ধের পিপরাহওয়া রত্নধাতু, যা ১৮৯৮ এবং ১৯৭১-৭৫ সালের খননে প্রাপ্ত অন্যান্য ধাতু ও রেলিকের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হলো।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় শতাব্দীরও বেশি অপেক্ষার পর ভারতের পবিত্র ঐতিহ্য আজ ঘরে ফিরেছে। তিনি বলেন, “আজ থেকে ভারতের মানুষ ভগবান বুদ্ধের এই পবিত্র ধাতু দর্শন করে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করতে পারবেন।”
মোদি জানান, ২০২৬ সালের প্রথম জনসভা ভগবান বুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত স্থানে করতে পারা তাঁর কাছে সৌভাগ্যের। তাঁর কামনা, বুদ্ধের আশীর্বাদে নতুন বছর বিশ্বজুড়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যের নতুন যুগের সূচনা করুক।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনের সময় ভারতের এই পবিত্র ধাতু বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেগুলি দেশে ফিরে আসা আমাদের শেখায় যে দাসত্ব শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকেও দমিয়ে রাখে।
ভগবান বুদ্ধের ধাতুকে ভারতের সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, এগুলি শুধুমাত্র প্রত্নসম্পদ নয়, আমাদের আরাধ্য ঐতিহ্যের অংশ।
১৮৯৮ সালে প্রাচীন কাপিলাবস্তু স্তূপে উইলিয়াম ক্ল্যাক্সটন পেপ্পে এই ধাতুগুলি আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে এর একাংশ সিয়ামের রাজাকে উপহার দেওয়া হয়, একাংশ ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাকিটা কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল। ২০২৫ সালে সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে ও আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সমাজের সহযোগিতায় পেপ্পে পরিবারের কাছে থাকা ধাতু ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়।
এই প্রদর্শনীতে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৮০টিরও বেশি নিদর্শন প্রদর্শিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে মূর্তি, পাণ্ডুলিপি, থাংকা ও নানা ধর্মীয় সামগ্রী।
