প্যারিস: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকার হাতে গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। এবার সরাসরি সেই অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুললেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মাদুরোকে আটক করার যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা ফ্রান্সের সমর্থন বা অনুমোদন কোনোটাই পায়নি।
রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান শক্তি প্রয়োগ বা একতরফা পদক্ষেপে সম্ভব নয়। যে পদ্ধতিতে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি না, অনুমোদনও দিইনি।’ তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে। ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক দেশ। ম্যাক্রোঁর বক্তব্যে সেই উদ্বেগেরই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সে দেশের জনগণেরই। ‘আমরা চাই রাজনৈতিক সমাধান, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যে থেকেই এই সঙ্কটের নিষ্পত্তি হোক,’ মন্তব্য ম্যাক্রোঁর। তাঁর মতে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনও দেশের নেতৃত্ব বদলানোর চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
উল্লেখ্য, মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘গানবোট কূটনীতি’ এবং আধুনিক উপনিবেশবাদী মানসিকতার অভিযোগ উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী ইউরোপীয় শক্তির এই প্রকাশ্য অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য অস্বস্তির কারণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর বক্তব্য শুধু আমেরিকার পদক্ষেপের সমালোচনাই নয়, একই সঙ্গে ইউরোপের একাংশ যে এই অভিযানের সঙ্গে একমত নয়, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিল। ভেনেজুয়েলা সঙ্কট এখন আর শুধু লাতিন আমেরিকার বিষয় নয়, তা ক্রমশ বৈশ্বিক শক্তিসমীকরণের কেন্দ্রে উঠে আসছে।
