রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত। শুক্রবার কমিশনের তরফে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির পরিমাণ এখনও বিপুল, যদিও তা কিছুটা কমেছে।
সুব্রত গুপ্তের বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে রাজ্যে মোট অসঙ্গতির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ। সাম্প্রতিক যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার। তবে এখনও যে বিপুল সংখ্যক গরমিল রয়ে গিয়েছে, তা কার্যত ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী—
এক পরিবারের ক্ষেত্রে ছয় জনের বেশি সন্তান দেখানো হয়েছে, এমন নথিভুক্তির সংখ্যা প্রায় ২৪ লক্ষ।
ভোটার তালিকায় নামের গরমিল ধরা পড়েছে আনুমানিক ৫১ লক্ষ ক্ষেত্রে।
অভিভাবকের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম, এমন ঘটনা পাওয়া গিয়েছে ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার।
আবার সন্তানের সঙ্গে অভিভাবকের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি, এমন নথিভুক্তি রয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ ৪১ হাজার।
দাদা–দিদা বা ঠাকুরদা–ঠাকুমার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ৪০ বছরের কম, এমন অসঙ্গতির সংখ্যাও কম নয়— প্রায় ৩ লক্ষ।
স্পেশাল রোল অবজারভারের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই ধরনের অসঙ্গতি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, কমিশনের দাবি, ধাপে ধাপে যাচাই করে সমস্ত গরমিল সংশোধনের কাজ চলছে।
