প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক কলকাতা সফরে করা ‘চোর’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল মাঠে প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,
“বাংলাকে চোর বলার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? বাংলার মানুষকে অপমান করার সাহস কোথা থেকে আসে? বাংলাকে ওরা সহ্য করতে পারে না, ক্ষমতায় থেকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে।”
উন্নয়ন প্রকল্পে জোর
সকালে সড়ক পথে বর্ধমানে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন— আবাস যোজনা, সবুজ সাথী, চোখের আলো, কৃষাণ ক্রেডিট, রূপশ্রী ও মৎস্যজীবীদের সহায়তা প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগ। পাশাপাশি ধামসা-মাদল বিতরণ, তাঁতিদের সহায়তা ও মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অনুদানও দেন। ১৪টি জেলার প্রকল্প তিনি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।
বিজেপি ও কেন্দ্রকে নিশানায়
প্রায় ৫০ মিনিটের বক্তৃতায় বারবার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুললেন মমতা। তাঁর দাবি,
“তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। উন্নয়নের টাকা আটকে দিয়ে বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তবুও আমরা রাজ্যের কোষাগার থেকে অর্থ দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।”
এরপরই কটাক্ষ করে বলেন,
“সবচেয়ে বড় চোর হল আপনাদের ডবল ইঞ্জিন সরকার। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রে দুর্নীতি চলছে—দেশ জানে। চোর সর্দারদের সঙ্গে বৈঠক করেন, আর বাংলাকে চোর বলেন—এটা মানুষ মেনে নেবে না।”
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও নাম না করে ‘চোর সর্দার’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
মোদীর সফর ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে কটাক্ষ
প্রধানমন্ত্রীর ঘন ঘন বাংলায় আগমন নিয়ে মমতার বক্তব্য—
“ইলেকশন এলেই পরিযায়ী শ্রমিকের মতো চলে আসেন। আসুন, চাইলে রোজ আসুন। কিন্তু বাংলাকে চোর বললে মানুষ চুপ থাকবে না।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“ইলেকশন কমিশনকে আমি প্রণাম জানাই, কিন্তু বিজেপির ললিপপ হবেন না। তা হলে বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।”
ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গ
বক্তৃতার একপর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন,
“বাংলায় নাকি সবাই বাংলাদেশি! ভাষা এক বলে গালাগালি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলার ইতিহাস-সংস্কৃতি ভুললে চলবে না। বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে কিছু হবে না।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য
পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার এই বক্তব্য কেন্দ্র-বিরোধী সুরকে আরও জোরদার করেছে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘অপমান’ ও ‘বঞ্চনা’র ইস্যুতে জোর দেবে তৃণমূল। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রের বরাদ্দ গরিবদের জন্য কাজে না লাগিয়ে অপব্যবহার হয়েছে, তাই তদন্ত চলবে।
সভা থেকে মমতার সাফ বার্তা—
“আমি যেমন ওনার চেয়ারকে সম্মান করি, ওনারও উচিত আমাদের চেয়ারগুলোকে সম্মান করা। বাংলার মানুষ চোর নয়, বাংলার মানুষ লড়াই করতে জানে।”
সব মিলিয়ে, এই সুর প্রমাণ করছে কেন্দ্র বনাম রাজ্যের সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে।
