চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মতুয়া সমাজে। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগণা, নদিয়া-সহ একাধিক জেলায় বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকী অনেকের মধ্যে দেশছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে |
বৃহস্পতিবার মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন মানবিক সমাজ গঠনে এই আন্দোলনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বড়মা বীণাপাণি দেবীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও আত্মিক সম্পর্ক ছিল। তাঁর মাতৃস্নেহ তিনি পেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি জানান, রাজ্য সরকার তাঁর সামাজিক অবদানের জন্য তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।
মতুয়া সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
ঠাকুরনগরে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে এবং কৃষ্ণনগরে তৈরি হচ্ছে তার এক্সটেনশন ক্যাম্পাস। এছাড়াও গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ, জলতৃপ্তি প্রকল্প, কুঠিপাড়া নাগবাড়ী সেতু, আইটিআই ও পলিটেকনিক কলেজ-সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিশেষ সার্ভে বা SIR-এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যাঁরা বহু প্রজন্ম ধরে এই দেশের নাগরিক এবং যাঁদের ভোটে সরকার গঠিত হয়, তাঁদেরই আবার নতুন করে নাগরিকত্বের প্রশ্নে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিকে অন্যায় বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মতুয়া সমাজসহ বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
