নয়াদিল্লি — মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যার কথা অবশেষে স্বীকার করল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, কোনও বিতরণ কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত গ্যাস পুরোপুরি ফুরিয়ে যায়নি।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিকারক দেশ। এর প্রায় ৯০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।
কেন্দ্র সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, আতঙ্কে অনেক মানুষ একসঙ্গে গ্যাস বুকিং করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, “প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বুকিং করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে একসঙ্গে প্রায় ৮৮ লক্ষ বুকিং এসেছে, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিলিন্ডারের কালোবাজারি করছে। তা রুখতে প্রশাসনের তরফে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দাবি করেছিলেন, দেশে তেল বা গ্যাসের কোনও সংকট নেই এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের হাতে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে এবং সিএনজি ও এলএনজির সরবরাহেও কোনও সমস্যা নেই।
তবে শনিবার কেন্দ্র স্বীকার করে নেয় যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বাংলা-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক জায়গায় হোটেল ও রেস্তরাঁতেও গ্যাসের অভাবে রান্না বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত গ্যাস মজুত করা ঠেকাতে বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
এদিকে গ্যাসের ব্যবহার কমাতে অনেক পরিবার এখন ইনডাকশন চুলা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানা যাচ্ছে।
