কলকাতা, ১৩ ডিসেম্বর: ১৪ বছর পর ফের কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন লিওনেল মেসি। ১৩ ডিসেম্বর স্মরণীয় হয়ে থাকার কথা ছিল ফুটবলের শহর কলকাতার জন্য। কিন্তু ‘গোট ট্যুর’-এ মেসির এই সফর যেভাবে মনে রাখার কথা ছিল, বাস্তবে হল তার সম্পূর্ণ উল্টোটা। সফল ফুটবল উৎসবের বদলে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণের অনুষ্ঠান পরিণত হল চরম বিশৃঙ্খলায়। প্রশ্ন উঠছে, কেন মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেন মেসি?
মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় দর্শকদের ন্যূনতম টিকিটের দাম ছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা। সর্বোচ্চ টিকিটের মূল্য পৌঁছেছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার কাছাকাছি। এত ব্যয় সত্ত্বেও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকার দেখা ঠিকমতো পেলেন না দর্শকরা। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই শতাধিক মানুষ মেসিকে ঘিরে ধরেন। নেতা-মন্ত্রী, নিরাপত্তারক্ষী এবং আয়োজকদের ভিড়ে কার্যত আড়ালেই থেকে যান মেসি।
মাঠের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল, কেন বিরক্ত হয়ে যুবভারতী ছাড়লেন মেসি—তা প্রকাশ্যে আনলেন ভারতের প্রাক্তন মিডফিল্ডার লালকমল ভৌমিক। তিনিও সেদিন ১৩ ডিসেম্বর মাঠে উপস্থিত ছিলেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শুরুতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকই ছিল।
লালকমল ভৌমিক বলেন, “প্রথমে সবকিছু ভালোই চলছিল। মেসি স্টেডিয়ামের মধ্যে হাঁটছিলেন, রিল্যাক্সড ছিলেন, হাসছিলেন, সবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন। এমনকি কোনও দ্বিধা ছাড়াই অটোগ্রাফ দিচ্ছিলেন।”
কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ করে প্রচণ্ড ভিড় হয়ে যায়। অনেকেই মাঠে ঢুকে পড়ে মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করে। তখনই ওঁর চোখে-মুখে অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।”
ভিড় আরও বেড়ে যাওয়ায় মেসির মেজাজ বদলে যায় বলে জানান লালকমল। তাঁর কথায়, “যখন সবাই ওঁর চারপাশে ঘিরে ধরে ছবি তুলছিল, তখনই বিরক্তি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। এক সময় মেসি মেজাজ হারিয়ে ফেলেন।”
শুধু মেসি নন, তাঁর সঙ্গে থাকা ল্যুই সুয়ারেজ় এবং রড্রিগো ডি’পলও পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়েছিলেন বলে জানান প্রাক্তন এই ফুটবলার। নিরাপত্তারক্ষীরাও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই নিরাপত্তার স্বার্থে মেসিকে দ্রুত মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এভাবেই ১৪ বছর পর কলকাতায় মেসির প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় হওয়ার বদলে বিতর্ক ও হতাশার রেশ রেখে গেল ফুটবলপ্রেমীদের মনে।
