অল ইংল্যান্ড ওপেন ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা Lakshya Sen। বার্মিংহামের ইউটিলিটা অ্যারেনায় পুরুষদের সিঙ্গলসের কোয়ার্টার ফাইনালে দুরন্ত পারফরম্যান্সে চিনের Li Shifeng-কে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন তিনি।
বিশ্বের ১২ নম্বর র্যাঙ্কিংধারী লক্ষ্য মাত্র ৪৫ মিনিটে সরাসরি গেমে ২১-১৩, ২১-১৬ ব্যবধানে পরাজিত করেন বিশ্বের ৬ নম্বর শিফেংকে। এই জয়ের ফলে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছালেন ভারতীয় তারকা।
এখন লক্ষ্য সেনের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। আর মাত্র দুটি ম্যাচ জিততে পারলেই তিনি Prakash Padukone এবং Pullela Gopichand-এর পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে অল ইংল্যান্ড ওপেনের শিরোপা জিততে পারবেন।
সেমিফাইনালে লক্ষ্য মুখোমুখি হবেন কানাডার Victor Lai এবং জাপানের Koki Watanabe-র মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর।
এই টুর্নামেন্টে লক্ষ্যের অতীত রেকর্ডও যথেষ্ট উজ্জ্বল। ২০২২ সালে তিনি ফাইনালে উঠলেও সেখানে ডেনমার্কের Viktor Axelsen-এর কাছে হেরে রানার-আপ হন। এরপর ২০২৪ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইন্দোনেশিয়ার Jonatan Christie-র কাছে হেরে থেমে যায় তাঁর অভিযান।
কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় লক্ষ্যকে। ধারালো স্ম্যাশ ও নিখুঁত প্লেসমেন্টে তিনি দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। শুধু আক্রমণই নয়, রক্ষণেও ছিলেন অনবদ্য—বহু কঠিন পরিস্থিতি সামলে সেখান থেকেই পাল্টা আক্রমণ গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে তাঁর ব্যাকহ্যান্ড ড্রপ শটগুলো শিফেংকে বারবার চাপে ফেলেছে।
প্রথম গেমে লক্ষ্য দ্রুত ৯-৪ ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং প্রতিপক্ষকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি। দ্বিতীয় গেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ২১-১৬ ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এর আগে শিফেংয়ের কাছে টানা তিনবার হেরেছিলেন লক্ষ্য। তবে এই টুর্নামেন্টে সেই হিসাব চুকিয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা। পাশাপাশি হংকংয়ের Ng Ka Long Angus এবং চিনের Shi Yuqi-র বিরুদ্ধে আগের হারগুলোর বদলাও নিয়েছেন তিনি।
এখন দেখার, ইতিহাস গড়ার সেই শেষ দুই ধাপ পার করতে পারেন কি না ভারতের এই প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাডমিন্টন তারকা।
