28 C
Kolkata
March 6, 2026
বিদেশ

ইরান যুদ্ধ ঘিরে জল্পনা খারিজ কুর্দিস্তান প্রশাসনের, সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দিল ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পরিকল্পনায় কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করার প্রশ্নই ওঠে না। এই ধরনের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে।

কুর্দিস্তান আঞ্চলিক প্রশাসনের মুখপাত্র পেশাওয়া হাওরামানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কুর্দিস্তান অঞ্চলের কোনও ভূমিকা রয়েছে— এমন দাবি বা কুর্দি বিরোধী দলগুলিকে অস্ত্র দিয়ে ইরানের ভিতরে পাঠানোর পরিকল্পনায় আমরা যুক্ত— এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ তাঁর অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল একের পর এক ইরানি ঘাঁটিতে আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা ইরানও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনায় আঘাত হানছে বলে খবর।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কুর্দিস্তান আঞ্চলিক প্রশাসনের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করছি। কুর্দিস্তান আঞ্চলিক প্রশাসন এবং এর অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলির কেউই এই যুদ্ধ ও উত্তেজনা বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনার অংশ নয়। বরং আমরা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষেই সওয়াল করছি।’

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কুর্দিস্তান অঞ্চলে যে হামলা হয়েছে তা নিয়েও প্রশাসন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁর কথায়, ‘কুর্দিস্তান অঞ্চলে কাপুরুষোচিত হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের ভূমি, আমাদের মানুষ এবং আমাদের অঞ্চলকে রক্ষা করতে ফেডারেল সরকার ও আন্তর্জাতিক সমাজের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরান সীমান্তের কাছে কুর্দি বাহিনী সক্রিয় হয়ে উঠছে। সেখানে বলা হয়, ইজরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর ইরানবিরোধী অভিযানের মধ্যেই কুর্দি শক্তি সীমান্ত এলাকায় শক্তি সঞ্চয় করছে।

আরও একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র দিতে পারে, যাতে ইরানের ভিতরে বৃহত্তর বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ইরান-ইরাক সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ইতিমধ্যেই ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির কয়েক হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কুর্দিস্তান গণতান্ত্রিক দলের সভাপতির সঙ্গে কথাও বলেছেন। এই দলটি অতীতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

অন্যদিকে ইরানের তরফে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মহম্মদ নাঈনি জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। শীঘ্রই নতুন প্রজন্মের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহারের কথাও ভাবা হচ্ছে।

ইরানের দাবি, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস’ নামে যে সামরিক অভিযান চলছে, সেখানে এখনও পর্যন্ত দেশের সামরিক শক্তির অল্প অংশই ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আঘাত হানার সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।

এই উত্তেজনার আবহে ইরাক প্রজাতন্ত্রের প্রথম মহিলা শানাজ ইব্রাহিম আহমেদও এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘কুর্দিদের একা থাকতে দিন। আমরা ভাড়াটে বন্দুক নই।’

তাঁর মতে, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যে সংকটের সময়ে কুর্দিদের শক্তি বা আত্মত্যাগের প্রয়োজন হলে সবাই তাদের মনে রাখে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলালেই তাদের বিপদের মুখে ফেলে রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের পরাশক্তিগুলির খেলায় কুর্দিদের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন, প্রায় অসম্ভব।’

Related posts

Leave a Comment