তেহরান, ১ মার্চ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে রবিবার নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হামলায় খামেনেইয়ের চার আত্মীয়ও নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তাঁর কন্যা, নাতি এবং জামাতা রয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Donald Trump তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ পোস্ট করে দাবি করেন, যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি অভিযানে খামেনেই নিহত হয়েছেন। তিনি একে “ইরানের জনগণের জন্য একক বৃহত্তম সুযোগ” বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “খামেনেই, ইতিহাসের অন্যতম এক দুষ্ট ব্যক্তি, মৃত।” তিনি আরও দাবি করেন, উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই হামলা সফল হয়েছে এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশই আর নেই। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি এখন আত্মসমর্পণ করে, তবে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে; নইলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, “শুধু খামেনেইয়ের মৃত্যু নয়, একদিনের মধ্যেই দেশটি ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu প্রকাশ্যে বলেন, “খামেনেই আর নেই— এমন বহু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।” যদিও তিনি সরাসরি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তিনি জানান, “খামেনেইয়ের কম্পাউন্ড ধ্বংস করা হয়েছে।”এই ঘটনার পর ইরানের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
