March 7, 2026
দেশ

খালিস্তান সমালোচক কানাডা প্রবাসী নারীকে খুনের দায় স্বীকার উগ্রপন্থী ঘনিষ্ঠ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে

অটোয়া: কানাডায় খালিস্তান আন্দোলনের সমালোচনায় সোচ্চার এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে খুনের দায় স্বীকার করেছে উগ্র খালিস্তানপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। কানাডার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় সে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অন্টারিও প্রদেশের লাসাল শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কানাডার সরকারি অর্থানুকূল্যে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শিখ উগ্রপন্থী মতাদর্শ প্রচারকারী একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট লাসাল শহরে এক মহিলাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিহত মহিলার নাম ন্যান্সি গ্রেওয়াল (৪৫)। তিনি উইন্ডসর এলাকায় বসবাস করতেন।

সিবিসি জানায়, ওই উগ্রপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে পাঞ্জাবি ভাষায় একটি পোস্টে ন্যান্সি গ্রেওয়ালের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘এই মহিলা ধর্ম ও খালিস্তান সম্পর্কে খারাপ কথা বলছিলেন। তার ফল তিনি পেয়েছেন।’ একই পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের সম্প্রদায় এবং খালিস্তানের বিরুদ্ধে যদি কেউ এ ধরনের কথা বলে, তবে তাদেরও একই পরিণতি হবে।’

কানাডার আরেক সংবাদমাধ্যম উইন্ডসর স্টার জানিয়েছে, এর আগে ন্যান্সি গ্রেওয়ালের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছিল। অভিযোগ, তার বাড়ির সামনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ন্যান্সি লিখেছিলেন, ‘আমি জানি এই ব্যক্তি কে। সে খালিস্তানের সঙ্গে যুক্ত।’

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমি ভয় পাচ্ছি। সে আমাকে সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছিল—এই বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখো, এই বিষয়ে কথা বলবে না।’

লাসাল পুলিশের প্রধান মাইকেল পিয়ার্স জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। এটি কোনও আকস্মিক বা এলোমেলো হামলা নয়। তিনি বলেন, ‘তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে এটি এলোমেলো হিংসার ঘটনা নয়। ন্যান্সি গ্রেওয়ালের খুনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি পুলিশ প্রধান। তার কথায়, ‘তদন্তের স্বার্থে কোনও সূত্র, তথ্য বা তদন্তের সম্ভাব্য দিক আমরা এখন প্রকাশ করতে পারি না।’

এই এলাকার সাংসদ হার্ব গিল ফেসবুকে এক বার্তায় জানিয়েছেন, ‘লাসাল পুলিশ পরিষেবায় বহু বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি এ ধরনের তদন্তে সময় লাগে এবং তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এগোতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রাক্তন সহকর্মীদের উপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

সাংসদ আরও জানিয়েছেন, ন্যান্সি গ্রেওয়ালের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তার কথায়, ‘ন্যান্সি গ্রেওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত পরিচিত একটি কণ্ঠস্বর ছিলেন। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ তার মতামত অনুসরণ করতেন।’

সিবিসি জানিয়েছে, ভারতে জন্ম নেওয়া ন্যান্সি গ্রেওয়াল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পাঞ্জাবি সম্প্রদায়ের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট পরিচিত ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত মতামত প্রকাশ করতেন। বিশেষ করে খালিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করায় তিনি আলোচনায় ছিলেন।

উইন্ডসর স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যান্সি গ্রেওয়াল পেশায় একজন ব্যক্তিগত সেবাকর্মী ছিলেন। হামলার সময় তিনি লাসালের এক বাসিন্দার বাড়িতে কাজের জন্য একাই উপস্থিত ছিলেন।

উইন্ডসর সাউথ এশিয়ান সেন্টারের কর্মসূচি অধিকর্তা নন্দিনী তিরুমালা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের এক সদস্যকে এত নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে, এটা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।’

তবে খালিস্তান রাজনীতির বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি বলেও জানানো হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment