পরিষ্কার আকাশের কারণে মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরে ফের তাপমাত্রা কমেছে। শ্রীনগর শহরে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে মাইনাস ৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উপত্যকাজুড়ে বইছে তীব্র হিমেল হাওয়া, যার জেরে সকালে খুব কম মানুষই ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন। পাহাড়ের চূড়া থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসে কাশ্মীর উপত্যকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, জম্মু শহরে মঙ্গলবার সকালে ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় সড়ক ও বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে বড় ধরনের তুষারপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় এই তীব্র শীত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার শ্রীনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গুলমার্গে তাপমাত্রা নেমেছে মাইনাস ৩.৫ ডিগ্রি এবং পাহেলগামে মাইনাস ৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। জম্মু শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩.৮ ডিগ্রি, কাটরায় ৬.২, বাতোটে ৪.১, বানিহালে ৮.৯ এবং ভাদেরওয়াহে মাইনাস ০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের (MeT) পূর্বাভাস অনুযায়ী, জানুয়ারি ১৮ ও ১৯ পর্যন্ত আংশিক থেকে সাধারণভাবে মেঘলা আকাশ থাকবে। জানুয়ারি ২০ তারিখে কিছু বিচ্ছিন্ন জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারি ২১ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাতসহ মেঘলা আবহাওয়া থাকতে পারে। জানুয়ারি ২৪ ও ২৫ তারিখে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আগামী দিনে অনেক জায়গায় ধীরে ধীরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, জম্মু বিভাগের সমতল এলাকায় মাঝারি কুয়াশা এবং কিছু জায়গায় ঘন কুয়াশা আগামী পাঁচ দিন ধরে বজায় থাকতে পারে।
বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে, বিশেষ করে কাশ্মীর উপত্যকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি ২৫ পর্যন্ত মূলত শুষ্ক ও অত্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দীর্ঘস্থায়ী এই শুষ্ক আবহাওয়া কৃষি, উদ্যানচাষ এবং পানীয় জলের উপর নির্ভরশীল জলাধারগুলিকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, কারণ এগুলি মূলত তীব্র শীতকালীন ৪০ দিনের সময়কাল ‘চিল্লাই কালান’-এ হওয়া ভারী তুষারপাতের উপর নির্ভরশীল।
চিল্লাই কালান ইতিমধ্যেই অর্ধেকের বেশি সময় অতিক্রম করেছে, অথচ উপত্যকার সমতল এলাকায় এখনও এই মরসুমের প্রথম তুষারপাত হয়নি। জানুয়ারি ৩০-এ চিল্লাই কালান শেষ হবে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে হওয়া তুষারপাত সাধারণত দ্রুত গলে যায় এবং পাহাড়ি অঞ্চলের স্থায়ী জলাধার পূরণে তেমন সহায়ক হয় না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
