ভারত সরকারের পর্যটন মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত ভারত পর্ব ২০২৬-এ কর্ণাটক সরকারের কন্নড় ও সংস্কৃতি দফতর এবং কর্ণাটক ট্যুরিজমের পরিবেশনায় রাজ্যের সমৃদ্ধ লোকজ ও শাস্ত্রীয় সংস্কৃতির এক বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী উপভোগ করলেন দর্শকরা। এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় কর্ণাটকের বৈচিত্র্যময় শিল্প ঐতিহ্য, নৃত্য, সংগীত ও লোকনৃত্যের মাধ্যমে রাজ্যের গভীর সাংস্কৃতিক শিকড়ের পরিচয় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিবমোগ্গা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ডোল্লু কুনিথা, যা শ্রী বীরলিঙ্গেশ্বরের উপাসনার সঙ্গে যুক্ত এক শক্তিশালী ঢোলনৃত্য। কুরুবা গোড়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার থেকে উদ্ভূত এই নৃত্যে সমবেত ঢোলবাদন ও উদ্দাম ভঙ্গিমার মাধ্যমে ভক্তি, শক্তি ও সামাজিক ঐক্যের প্রকাশ ঘটে। এছাড়াও মাণ্ড্য, মাইসুরু ও বেঙ্গালুরু অঞ্চলের পূজা কুনিথা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দেবী শক্তির আরাধনায় পরিবেশিত এই নৃত্যে শিল্পীরা অলংকৃত কাঠ বা বাঁশের কাঠামো ভারসাম্য রেখে তামাটে ঢোলের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন, যা ভক্তি ও শারীরিক দক্ষতার অনন্য মেলবন্ধন।
উপকূলীয় কর্ণাটকের চারশো বছরের পুরনো নৃত্যনাট্য যক্ষগানাও অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল। পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক এই নৃত্যনাট্যে বর্ণাঢ্য পোশাক, শক্তিশালী সংগীত ও স্বতঃস্ফূর্ত সংলাপের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে কর্ণাটকের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সমগ্র অনুষ্ঠানটির নৃত্য পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন জগদীশ সি জালা, যাঁর শিল্প নির্দেশনায় পরিবেশনা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভারত পর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংস্কৃতি, পর্যটন, খাদ্য, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্য তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাকে আরও দৃঢ় করছে।
