উত্তরপ্রদেশের কানপুরে মিশন শক্তি ৫.০-এর অধীনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার জেলার ৪,৫০০ কেন্দ্র জুড়ে প্রায় ৯.০৪ লক্ষ নারী, কিশোরী ও শিক্ষার্থী একসঙ্গে আয়রন ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করেন। এই প্রতীকী “লাল ট্যাবলেট” এখন নারীস্বাস্থ্য ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে।এই বিশাল উদ্যোগটি উত্তরপ্রদেশের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্য প্রচারণা হিসেবে রেকর্ড গড়েছে, যার লক্ষ্য মোট ১৪ লক্ষ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রচারাভিযান শুধুমাত্র নারীর নিরাপত্তা নয়, বরং তাঁদের স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সামগ্রিক কল্যাণের দিকেও মনোনিবেশ করছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং এই অভিযানে যুক্ত ফ্রন্টলাইন কর্মী ও বিভাগীয় টিমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মিশন শক্তি ৫.০ এখন নারীস্বাস্থ্য ও আত্মবিশ্বাসের এক মিশনে পরিণত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উৎসাহিত করতে তাঁদের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।”আগামী সোমবার এই প্রচারণায় সর্বাধিক সাফল্য অর্জনকারী কর্মী ও বিভাগগুলিকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশংসিতদের মধ্যে রয়েছেন সিডিও দীক্ষা জৈন, সিএমও ডাঃ হরিদত্ত নেমি, জেএসআই হুদা জেহরা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পঞ্চায়তি রাজ ও আঙ্গনওয়াড়ি বিভাগের দল।বিকাশ ভবনে সিডিও দীক্ষা জৈনের নেতৃত্বে নারী কর্মীরা একসঙ্গে আয়রন ট্যাবলেট সেবন করেন—একটি বার্তা দিয়ে যে, “একজন সুস্থ নারীই একটি সুস্থ পরিবার ও সমাজের ভিত্তি।” এএসএমও ডাঃ উদয়ভান সিং জানান, প্রথম পর্যায়েই ৯ লক্ষের বেশি নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং খুব শিগগিরই ১৪ লক্ষ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ১৫–১৭ বছর বয়সী প্রায় ৫৭% কিশোরী এবং ৫০ বছরের নিচে প্রায় ৬০% নারী অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত।
চিকিৎসকরা বলেন, এই প্রচারণা নারীদের প্রকৃত স্বস্তি দিচ্ছে। ডাঃ রুচি জৈন (সিএমএস, ডাফেরিন হাসপাতাল) জানান, গর্ভাবস্থা ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে আয়রন সাপ্লিমেন্ট অত্যন্ত জরুরি, যা পরিবারকে আরও সুস্থ করে তোলে।কানপুর জুড়ে স্কুল, গ্রাম ও আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে উৎসাহের ঢেউ দেখা গেছে। নারীরা ও শিক্ষার্থীরা বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন এস.এন. সেন কলেজ, এইচবি উইমেন্স কলেজ, ডিএভি কলেজ, নারওয়াল পিএইচসি, ডাফেরিন হাসপাতাল, কাশীরাম হাসপাতাল, বররা-গোবিন্দনগর সিএইচসি, ঘাটমপুর-বিলহর পঞ্চায়েত ভবন, এবং বিথুর ও শিবরাজপুরের বিভিন্ন কেন্দ্রে।একজন ছাত্রী দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “এই ট্যাবলেটটা ছোট হতে পারে, কিন্তু এর প্রভাব বিশাল।”
