তামিল চলচ্চিত্র জগতে এই সপ্তাহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘জনা নায়াগান’ সার্টিফিকেশন বিতর্ক। থালাপতি বিজয়ের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘জনা নায়াগান’ ৯ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী মুক্তির কথা থাকলেও সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC)-এর সঙ্গে জটিলতার কারণে নির্ধারিত দিনে মুক্তি পায়নি। এতে হতাশ হন দর্শক, নির্মাতা ও পরিবেশকরা।
বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয় যখন ৯ জানুয়ারি মাদ্রাজ হাইকোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়। শুক্রবার রাতে ছবির নির্মাতারা বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখে বিজয়ের অনুরাগীদের কাছে দেরির জন্য ক্ষমা চান। তবে এই বিলম্ব তামিল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বড়সড় প্রভাব ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে ‘জনা নায়াগান’ বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা, রাজ্যসভার সাংসদ ও প্যান-ইন্ডিয়া তারকা কমল হাসান। নিজের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি একটি বিবৃতি পোস্ট করে বিষয়টিকে শুধু একটি ছবির সমস্যা নয়, বরং শিল্পী ও শিল্পের স্বাধীনতার বড় প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন।
‘For Art, For Artists, For the Constitution’ শীর্ষক ওই বিবৃতিতে কমল হাসান লেখেন, ভারতের সংবিধান যুক্তি ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তাঁর মতে, এই মুহূর্তটি কোনও একটি ছবির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে শিল্প ও শিল্পীদের জন্য কতটা জায়গা রাখা হচ্ছে, সেই প্রশ্নের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, সিনেমা কোনও একজনের একক শ্রম নয়, এটি লেখক, টেকনিশিয়ান, শিল্পী, প্রদর্শক ও অসংখ্য ছোট ব্যবসার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সার্টিফিকেশনে দেরি হলে এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থার জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমল হাসান বলেন, স্পষ্টতা না থাকলে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে যায় এবং মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রতিটি কাট বা পরিবর্তনের জন্য লিখিত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।
বিবৃতির শেষে কমল হাসান গোটা চলচ্চিত্র শিল্পকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে এমন সংস্কার প্রয়োজন, যা সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষা করবে, সাংবিধানিক মূল্যবোধকে সম্মান দেবে এবং শিল্পী ও জনগণের উপর আস্থা আরও মজবুত করবে।
