নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা — ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের জগতে ঢোকার স্বপ্ন—অনেক তারকার জীবনে এটাই স্বাভাবিক গল্প। কিন্তু জিশু সেনগুপ্ত-র ক্ষেত্রে ছবিটা ছিল একেবারেই আলাদা। থিয়েটার পরিবারে জন্ম হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে সিনেমা থেকে অনেক দূরে।
জিশু নিজেই জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁর জীবনে সিনেমার কোনও বিশেষ প্রভাব ছিল না। তাঁর বাবা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বাড়িতে সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। বরং তাঁর মা মনে করতেন, পরিবারে একজন অভিনেতাই যথেষ্ট।
ফলে অভিনয় নিয়ে কোনও পরিকল্পনা বা আগ্রহ তাঁর মধ্যে তৈরি হয়নি। সেই সময় তাঁর জীবনের মূল আকর্ষণ ছিল ক্রিকেট এবং সঙ্গীত।
জিশু জানান, তিনি প্রতিযোগিতামূলক স্তরে ক্রিকেট খেলেছেন এবং বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। পাশাপাশি ড্রাম বাজানো ছিল তাঁর নেশা, যা আজও বজায় রয়েছে। এখনও তাঁর একটি ব্যান্ড রয়েছে।
পড়াশোনায় খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও জীবনের মোড় ঘুরে যায় হঠাৎই। প্রায় ঘটনাচক্রেই তিনি অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন এবং তারপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার অন্যতম পরিচিত মুখ।
টেলিভিশন দিয়ে কেরিয়ার শুরু করে তিনি বড় পর্দায় নিজের জায়গা পাকা করেন। অটোগ্রাফ, চতুষ্কোণ, জাতিস্মর এবং এক যে ছিল রাজা-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ছবিতেও নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। বারফি!, পিকু, মারদানি এবং শকুন্তলা দেবী-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে।
বর্তমানে প্রায় তিন দশকের কেরিয়ার পূরণের পথে জিশু। সামনে রয়েছে নতুন ছবি ভূত বাংলা, যেখানে একাধিক তারকার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে তাঁকে।
