রাঁচি— সাপের কামড়ে বাড়তে থাকা মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনা রুখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খন্ড সরকার। এবার থেকে সাপের কামড়কে ‘নোটিফায়েবল রোগ’ হিসেবে ঘোষণা করা হল। অর্থাৎ সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিটি সাপের কামড়ের ঘটনা এবং মৃত্যু রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে সাপের কামড়ের প্রকৃত সংখ্যা জানা সহজ হবে এবং দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে। বিশেষ করে বর্ষা ও গরমকালে গ্রামাঞ্চল, আদিবাসী এলাকা এবং কৃষিজমিতে সাপের কামড়ের ঘটনা বেড়ে যায়— সেই সময় নজরদারি আরও বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই সাপের কামড়ের ঘটনা ঠিকমতো রিপোর্ট হত না। অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় চিকিৎসা বা কুসংস্কারের উপর নির্ভর করতেন। এর ফলে চিকিৎসায় দেরি হত এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যেত।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, রেল, সেনা এবং আয়ুষ সংস্থাগুলিকেও সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করে নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি আলাদা রেজিস্টার রাখতে হবে এবং প্রতি মাসে দু’বার করে জেলা স্বাস্থ্য কর্তাদের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোন এলাকায় বেশি সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটছে তা চিহ্নিত করা সহজ হবে। সেই অনুযায়ী অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত, জরুরি পরিষেবা এবং সচেতনতা কর্মসূচি আরও জোরদার করা যাবে।
এছাড়া কেন্দ্রের ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ স্নেকবাইট এনভেনোমিং ২০৩০’-এর সঙ্গে মিল রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, সাপের কামড়ে মৃত্যু ও অক্ষমতার হার অন্তত ৫০ শতাংশ কমানো।
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অজয় কুমার সিংহ জানিয়েছেন, জাতীয় নির্দেশিকা মেনে চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রামস্তরে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
