নয়াদিল্লি, ৭ ফেব্রুয়ারি: জনকপুরীতে খোলা গর্তে পড়ে এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় কড়া অবস্থান নিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে সমস্ত বাস্তবায়নকারী দপ্তরের জন্য ৮ দফা নিরাপত্তা নির্দেশ জারি করে অবিলম্বে সময়সীমাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খনন ও রাস্তা কাটার কাজের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে দিল্লি জুড়ে চলমান ও সদ্য সম্পন্ন সমস্ত খনন ও রাস্তা কাটার কাজের জরুরি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রধান সচিব রাজীব ভার্মা একটি অফিস মেমোরেন্ডাম জারি করে দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে রাস্তা, ফুটপাথ ও ভূগর্ভস্থ পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত নির্মাণ, মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ৮ দফা নিরাপত্তা কাঠামো মেনে চলার নির্দেশ দেন। দিল্লি সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জনকপুরী দুর্ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন।
অবহেলার কারণে প্রাণহানি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জননিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না। যেখানে গাফিলতি পাওয়া যাবে, সেখানে দায় নির্ধারণ করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই নির্দেশিকা পূর্ত দপ্তর, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, দিল্লি জল বোর্ড, দিল্লি পৌরনিগম, এনডিএমসি, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা সহ দিল্লি সরকারের অধীন সমস্ত দপ্তর ও ঠিকাদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ৮ দফা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি কাজের স্থানে পর্যাপ্ত ও স্পষ্ট সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড আগেভাগে টাঙাতে হবে।
রাতের বেলা ও কম দৃশ্যমানতার পরিস্থিতিতে খননস্থলের চারপাশে রিফ্লেক্টর লাইট, ব্লিঙ্কার ও আলোকিত টেপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। পুরো কাজের জায়গা জুড়ে শক্ত ও দৃশ্যমান ব্যারিকেড বসাতে হবে, যাতে পথচারী, সাইকেল আরোহী ও যানবাহন দুর্ঘটনাবশত সেখানে প্রবেশ না করতে পারে। ব্যারিকেড এমনভাবে বসাতে হবে যাতে খোলা গর্ত বা খনন সামগ্রী বাইরে থেকে দৃশ্যমান না হয় এবং ধুলোদূষণও নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রয়োজনে নিরাপদ পথচারী চলাচলের ব্যবস্থা ও যান চলাচলের বিকল্প পথ নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা কম হয় এবং নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
