মালে, ১১ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী তাদের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইশতেহারে নারী সুরক্ষা ও প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দলটির অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষণ নেই— এমনই দাবি করা হয়েছে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।
মালদ্বীপভিত্তিক একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সরকারে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিলেও দলের দীর্ঘদিনের বক্তব্য ও সংগঠন কাঠামোর সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে দলটি কোনও নারী প্রার্থী দেয়নি, যা নারী প্রতিনিধিত্বের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
দলের আমির শফিকুর রহমান একাধিক প্রচারসভায় নারীদের ‘নিরাপত্তা’ ও ‘মর্যাদা’ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইশতেহারেও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন সময়ে কর্মঘণ্টা হ্রাস, পৃথক বাস পরিষেবা, নজরদারি ব্যবস্থা ও জরুরি সহায়তা নম্বর চালুর মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রতিশ্রুতিগুলিতে নারীর সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হলেও তাঁদের সক্রিয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ স্পষ্ট নয়। বরং নারীদের মূলত সুরক্ষার প্রয়োজনীয় সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া দলের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের অবস্থান অনুযায়ী নারীরা সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না। এ থেকে বোঝা যায়, দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ থেকে নারীর ভূমিকায় তেমন পরিবর্তন আসেনি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শরিয়াহ আইন প্রয়োগের প্রশ্নে দলের অবস্থান অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্পষ্টতা নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে দলটির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।
যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সমালোচকদের মতে, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ফারাক রয়ে গেছে।
