প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার মণিপুর সফরে গিয়ে বলেছেন, রাজ্যে যেকোনো ধরনের হিংসা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষকে তিনি “পূর্বপুরুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক মহা অবিচার” বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আহ্বান জানান, মণিপুরকে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং তা করতে হবে একসঙ্গে। মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভারতের প্রতিরক্ষায় মণিপুরের অবদান ঐতিহাসিক। তিনি বলেন, এখানেই প্রথমবার ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজ, আর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মণিপুরকে বলেছিলেন ভারতের স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার।
মোদি আরও জানান, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মাউন্ট হ্যারিয়েট-এর নাম বদলে রাখা হয়েছে মাউন্ট মণিপুর, যা মণিপুরি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি দেশের ১৪০ কোটির শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ইমফল ও চুরাচাঁদপুর সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ₹৮,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- মণিপুর আরবান রোডস, ড্রেনেজ অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (₹৩,৬৪৭ কোটি)
- মণিপুর ইনফোটেক ডেভেলপমেন্ট (MIND) প্রকল্প (₹৫৫০ কোটি)
- নারী কর্মজীবীদের জন্য ৯টি হোস্টেল (₹১৪২ কোটি)
- সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (₹১০৫ কোটি)
- ১৬ জেলার ১২০টি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন (₹১৩৪ কোটি)
- গ্রামীণ যোগাযোগ, শিক্ষা ও পর্যটন প্রকল্প (₹১০২ কোটি)
- খুমান লাম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বহুমুখী ইনডোর স্টেডিয়াম (₹৩৬ কোটি)
- তেংনৌপাল সেকশনে NH-102A মহাসড়কের উন্নয়ন (₹৫০২ কোটি)
এর আগে মণিপুর সফরে আসার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী মিজোরামে প্রায় ₹৯,০০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বৈরাবি-সৈরাং রেললাইন, যা প্রথমবারের মতো রাজ্যের রাজধানী আইজলকে ভারতের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মোদি একে ঐতিহাসিক দিন বলে উল্লেখ করেন।
