ইজরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দল সোমবার মিশরের শার্ম এল-শেখ রিসর্টে প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু — যুদ্ধবিরতি, ইজরায়েলি সেনাদের আংশিক প্রত্যাহার, হামাসের হাতে আটক ইজরায়েলি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে ইজরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি।
ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী হামাসকে অস্ত্রত্যাগ করতে হবে, যা আগে হামাস প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইজরায়েলও ধীরে ধীরে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে। দুই পক্ষই বর্তমানে আলোচনার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে নিশ্চয়তা ও গ্যারান্টি চাইছে, যা আগের আলোচনাগুলিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমি বলেছি, প্রথম ধাপটি এই সপ্তাহেই শেষ হওয়া উচিত। সবাইকে দ্রুত এগোতে বলছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি পরিকল্পনাকে আরব ও পশ্চিমা দেশগুলির সমর্থন মিলেছে। যদিও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করেছেন যে, আলোচনায় ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হবে।
হামাস প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ জন জীবিত ইজরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁরা এখনও সমস্ত শর্ত মেনে নেয়নি। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু সরকারের অতি-ডানপন্থী মন্ত্রীরা এই চুক্তির বিরোধিতা করেছে এবং সরকারের পতনের হুমকি দিয়েছে।
তবুও আন্তর্জাতিক মহল এই আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী এবং অনেকেই জোর দিচ্ছেন দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর।
