২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রেল তার মোট নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.২ শতাংশ বিদ্যুতায়িত করেছে, যা একে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক বিদ্যুতায়িত রেল ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। কার্বন নির্গমন হ্রাস, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই বিদ্যুতায়ন এখন ভারতীয় রেলের অন্যতম মূল অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
একসময় যেখানে ডিজেল ইঞ্জিনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল রেল, সেখানে এখন দ্রুতগতিতে বৈদ্যুতিক ট্রেনে রূপান্তর ঘটছে, যা আধুনিক ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, ‘মিশন ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন’-এর আওতায় সারা নেটওয়ার্ক জুড়ে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার বসানোর ফলে রেল ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও দক্ষ হয়ে উঠছে। এই রূপান্তর দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং এটি দেশের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্মার্ট পরিবহণ নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্কই বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে পরিচালিত হচ্ছে।
একইসঙ্গে স্টেশন ও রেল পরিচালনায় সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—সবুজ ট্রেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিবেশ সুরক্ষা। স্বাধীনতার সময় ভারতে মাত্র ৩৮৮ রুট কিলোমিটার রেলপথ বিদ্যুতায়িত ছিল এবং কয়লা ও ডিজেল লোকোমোটিভই প্রধান ভূমিকা পালন করত।
বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুতায়নের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়লেও গত এক দশকে এই ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। সরকার জানিয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যেখানে দৈনিক গড়ে মাত্র ১.৪২ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন হতো, সেখানে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেই গতি বেড়ে দৈনিক গড়ে ১৫ কিলোমিটারেরও বেশি হয়েছে, যা রেল আধুনিকীকরণের গতি স্পষ্ট করে।
২০০০ সালে যেখানে বিদ্যুতায়িত রেলপথের হার ছিল ২৪ শতাংশ, তা ২০১৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ শতাংশে এবং ২০২৪ সালের শেষে তা ৯৬ শতাংশ অতিক্রম করে। সরকার আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৯,৪২৭ রুট কিলোমিটার রেলপথ বিদ্যুতায়িত হয়েছে, যার মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই বিদ্যুতায়িত হয়েছে প্রায় ৪৬,৯০০ রুট কিলোমিটার।
সবুজ শক্তির দিকেও জোর দিচ্ছে ভারতীয় রেল। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রেল নেটওয়ার্কে ৮৯৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২০১৪ সালে এই ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩.৬৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে ২,৬২৬টি রেল স্টেশনে সৌরশক্তির ব্যবহার হচ্ছে, যা পরিষ্কার শক্তির ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়।
এই ৮৯৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের মধ্যে প্রায় ৬২৯ মেগাওয়াট ট্র্যাকশন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, অর্থাৎ সরাসরি ট্রেন চালানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে তা কাজে লাগছে। বাকি ২৬৯ মেগাওয়াট ব্যবহৃত হচ্ছে স্টেশন আলোকসজ্জা, কর্মশালা, পরিষেবা ভবন ও রেল আবাসনে। এর ফলে প্রচলিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমছে এবং খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শক্তি নিরাপত্তাও বাড়ছে।
