দিল্লি — পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহের মধ্যেই ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় স্বস্তির খবর সামনে এল। ভারতীয় পতাকাবাহী দু’টি এলপিজি পরিবহণকারী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। জাহাজ দু’টিতে প্রায় ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস রয়েছে, যা প্রায় ৬৫ লক্ষ গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের সমপরিমাণ।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’ নামের এই দু’টি জাহাজ পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে রওনা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। বর্তমানে জাহাজ দু’টি ভারতের বন্দরের দিকে এগিয়ে আসছে।
ভারতে সাধারণ গৃহস্থালির একটি গ্যাস সিলিন্ডারে প্রায় ১৪.২ কেজি গ্যাস থাকে। সেই হিসাবে জাহাজ দু’টির মোট জ্বালানির পরিমাণ হিসাব করলে প্রায় ৬৫ লক্ষ সিলিন্ডারের সমান জ্বালানি দেশে পৌঁছবে। এর ফলে দেশের বহু পরিবারে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এই জাহাজগুলির নিরাপদ যাত্রা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাহাজ চলাচল মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, জাহাজ দু’টি নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে এখন ভারতের বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘শিবালিক’ জাহাজটি ১৬ মার্চ মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছতে পারে এবং ‘নন্দা দেবী’ ১৭ মার্চ কান্ডলা বন্দরে নোঙর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে জাহাজ পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিক রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে এখনও মোট ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ১টি এলএনজি জাহাজ, ৪টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, ১টি রাসায়নিক পণ্যবাহী জাহাজ, ৩টি কন্টেনার জাহাজ, ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১টি ড্রেজার। এছাড়াও একটি খালি ব্যালাস্ট জাহাজ এবং তিনটি মেরামতির জন্য ড্রাই ডকে রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লেও ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। জাহাজ পরিবহণের মহাপরিদপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রপথে থাকা ভারতীয় জাহাজগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জাহাজ পরিবহণের যোগাযোগ কেন্দ্রে প্রায় ৩১২টি ফোন এবং ৪৬০টি ইমেল এসেছে। এগুলির বেশিরভাগই ছিল সমুদ্রকর্মী, তাঁদের পরিবার এবং সামুদ্রিক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে। গত পনেরো দিনে মোট আড়াই হাজারেরও বেশি ফোন এবং প্রায় পাঁচ হাজার ইমেলের উত্তর দিয়েছে কেন্দ্র বলে জানিয়েছে দপ্তর।
এই পরিস্থিতিতে সরকার স্পষ্ট করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা থাকলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
