প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল ইনফো সিস্টেমস (DGIS) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব কুমার সাহনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন আধুনিক যুদ্ধের প্রকৃতি আমূল বদলে দিচ্ছে—বেগ, নির্ভুলতা এবং অভিযোজনক্ষমতা এনে যুদ্ধক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
তিনি জানান, ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই তাদের মূল কার্যপ্রণালিতে AI একীভূত করা শুরু করেছে এবং এর কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়েছে অপারেশন সিনদূর-এ।
DG EME-র দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাহনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে — স্বয়ংক্রিয়তা, ডিজিটাইজেশন, AI ও বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে। এই প্রযুক্তিগুলি অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিস্থিতি অনুধাবন এবং প্রযুক্তিগত প্রাধান্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
অপারেশন সিনদূরে ব্যবহৃত প্রধান AI-চালিত অ্যাপ্লিকেশনগুলির কথা তিনি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- Electronic Intelligence Collation & Analysis System (ECAS): দেশীয় সফটওয়্যার, যা রিয়েল-টাইমে আপডেট হয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকি শনাক্ত ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে কৌশলগত সুবিধা এনে দেয়।
- Trinetra System (Project Sanjay-এর সঙ্গে যুক্ত): সমন্বিত অপারেশনাল ছবি প্রদান করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- Predictive Modelling & Weather Forecasting Tools: দীর্ঘ পাল্লার পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণে আবহাওয়া ও হুমকি পূর্বাভাস দেয়।
তিনি বলেন, “এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনগুলি সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া ক্ষমতাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।”
ভারতীয় সেনা ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাঠামোগত প্রয়োগের জন্য ছয়টি “Lines of Effort (LoE)” নির্ধারণ করেছে, যার লক্ষ্য জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভর উদ্ভাবন।
🔹 LoE-I: Alignment with National Missions — IndiaAI Mission, Digital India, Make in India, এবং আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্বদেশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গঠন।
🔹 LoE-II: Synergised Structures and Infrastructure — AI সেল স্থাপন, সেনা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, এবং যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য নিরাপদ ক্লাউড-ভিত্তিক অবকাঠামো তৈরি।
🔹 LoE-III: Application Focus and Data Preparedness — নজরদারি, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক্স, সাইবার প্রতিরক্ষা এবং যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনায় উচ্চ-প্রভাব ক্ষেত্র নির্ধারণ
