মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে শুক্রবার প্রতিক্রিয়া জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের জ্বালানি সংক্রান্ত নীতি দেশের মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয়।
তিনি বলেন, “জ্বালানি উৎস নিয়ে ভারতের অবস্থান আপনারা জানেন। বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি এবং জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করেই আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান, সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সম্প্রতি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করেছেন, যার লক্ষ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সহায়তাকারী দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়া।
এর মধ্যেই মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিকের মন্তব্য প্রসঙ্গে জবাব দেন জয়সওয়াল। লাটনিক দাবি করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এই বক্তব্যকে “ভুল ব্যাখ্যা” বলে উল্লেখ করেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ পর্যন্ত একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে।
উভয় দেশই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জয়সওয়াল বলেন, “দুটি পরিপূরক অর্থনীতির মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তিতে আমরা আগ্রহী এবং সেটি সম্পন্ন করার অপেক্ষায় রয়েছি।”
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মোট আটবার ফোনে কথা হয়েছে, যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মুখপাত্রের কথায়, প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখেই তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেন।
