কুয়ালালামপুর, ৭ ফেব্রুয়ারি — প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার কুয়ালালামপুরে ‘সেলামাত দাতাং মোদিজি’ ভারতীয় সম্প্রদায়ের সম্মেলনে বলেন, মালয়েশিয়ায় শীঘ্রই ভারতীয় কনস্যুলেটও খোলা হবে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে; এই অনুষ্ঠানে ৮০০ শিল্পীর একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার রেকর্ডেও স্থান পেয়েছে। মোদি বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের জন্য এখন থেকে ঊর্ধ্বকোটি পর্যন্ত ওসিআই কার্ডের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, যা প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক খুশির সৃষ্টি করেছে।
তিনি টুইটে জানিয়েছেন, সম্প্রদায়ের এই বৃহৎ স্বাগত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দেশপ্রেম ও সংযোগের অনুভূতি জাগ্রত হয় এবং ভবিষ্যতে কনস্যুলেট খোলার সিদ্ধান্ত ভারত-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে শক্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। মোদি বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতি ও উষ্ণ স্বাগতকে বাদ না করে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মালয়েশিয়ার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান যেভাবে রেখেছেন তা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে; তিনি দেশ-দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে ভারতীয় নাগরিকদের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মোদি ভারত-মালয়েশিয়া অংশীদারিত্বকে IMPACT (India Malaysia Partnership For Advancing Collective Transformation) হিসেবে আখ্যা দিয়ে দুদেশের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক মিল ও মানুষের যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করেন; তিনি ব্যক্তিগতভাবে রুটি কানাই ও মালাবার পরোটা, স্পাইস-সংযুক্ত কফি-চা (তেহ তারিক) ইত্যাদির মিলকে দুদেশের সাংস্কৃতিক সম্বন্ধের উদাহরণ হিসেবে তুলেছেন।
তিনি দেশের গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপান্তর, ইনফ্রা উন্নয়ন, সবুজ উন্নয়ন, সোলার এনার্জি, ডিজিটাল রোডম্যাপ ও নতুন প্রযুক্তির অগ্রগতির কথাও hervorheben করেন এবং উল্লেখ করেন যে ভারতের অবস্থান দ্রুত এগিয়ে ১১তম থেকে চতুর্থ সর্ববৃহৎ অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে। মোদি বলেন, ফিনটেক বিপ্লবের সফলতায় বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট হচ্ছে ভারতের মাধ্যমে এবং শিগগিরই মালয়েশিয়ায়ও ইউপিআই-ভিত্তিক পেমেন্ট সুবিধা চালু করা হবে, যা পর্যটন ও লেনদেনে সহায়ক হবে। সংস্কৃতি ও শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি একটি নিবেদিত থিরুভাল্লভার সেন্টার আনুনিভার্সিটি অব মালায়ায় স্থাপনের ঘোষণা দেন; আগেই সেখানে থিরুভাল্লভার চেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং এখন থিরুভাল্লভার স্কলারশিপের মাধ্যমে একাডেমিক বিনিময়ও বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি ভাষা ও সাহিত্য—বিশেষ করে তামিল—এর বৈশ্বিক অবদানও স্মরণ করেন এবং মালয়েশিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে যে তামিল সম্প্রদায় আছে তাদের সমাজসেবামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে মোদি ভারত ও মালয়েশিয়ার ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক-মানবিক বন্ধনের জোর দিতেও উৎসাহী ছিলেন—দুটি দেশের মানুষ পরস্পরকে বোঝে, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতের মাধ্যমে শক্ত যোগাযোগ বজায় রয়েছে, এমনকি তিনি আনোয়ার ইব্রাহিমের তামিল গান শেখার আগ্রহের কথাও উল্লেখ করে কৌতুককরভাবে শোনান। মোদি এবং আনোয়ার মিলিতভাবে সামরিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং দুদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
