29 C
Kolkata
March 13, 2026
দেশ

হরমুজ প্রণালী পার করল ভারতের দুই তেলবাহী জাহাজ, আরও ৮টির অনুমতির অপেক্ষা

নয়াদিল্লি — পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালী নিরাপদে পার করেছে ভারতের দুটি তেলবাহী জাহাজ। বর্তমানে আরও আটটি জাহাজ প্রণালীর আগে অপেক্ষা করছে। সেগুলিকেও পারাপারের অনুমতি নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে চলা উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে।

ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পরই প্রথম দুটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। আশা করা হচ্ছে, অপেক্ষায় থাকা বাকি জাহাজগুলিও খুব শীঘ্রই ওই সমুদ্রপথ পেরিয়ে ভারতে পৌঁছবে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। ভারতের আমদানি করা ক্রুড অয়েলের বড় অংশও এই পথেই আসে। ফলে সেখানে বিঘ্ন ঘটলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের জ্বালানি সরবরাহে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনেকটাই কমে গিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তাদের প্রতিপক্ষ দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। সেই আশঙ্কায় বহু আন্তর্জাতিক ট্যাঙ্কার ও কার্গো জাহাজ এখন এই পথ এড়িয়ে চলছে।

গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি মায়ুরি নারি’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আগুনে পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় জাহাজের কয়েক জন নাবিক নিখোঁজ বলে জানা গেছে।

এছাড়া ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং ‘স্টার গুইনেথ’ নামে আরও কয়েকটি জাহাজ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাকের জলসীমার কাছেও ‘সেফসি বিষ্ণু’ এবং ‘জেফিরস’ নামে দুই জ্বালানি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সরাসরি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মূল লক্ষ্য ছিল—ভারতগামী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

জয়শঙ্কর স্পষ্টভাবে জানান, ভারতীয় জাহাজগুলি নিয়মিত বাণিজ্যিক কাজেই চলাচল করছে এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে সেগুলি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সূত্রের দাবি, ভারতের এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়েছে তেহরান। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ধরে রেখেছে। ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে।

এছাড়া ইরানের কয়েকজন নাগরিক বর্তমানে ভারতে আটকে পড়েছেন এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা করছে দিল্লি। কূটনীতিকদের মতে, এই সব বিষয় মাথায় রেখেই ইরান ভারতীয় জাহাজ যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে এবং অপেক্ষমাণ জাহাজগুলিকেও ছেড়ে দিতে পারে।

তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। তাই জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক নজর রাখছে ভারত সরকার।

Related posts

Leave a Comment