31 C
Kolkata
March 23, 2026
দেশ

ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উন্নত ভারতের লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে: প্রধানমন্ত্রী মোদি


শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ঐতিহাসিক ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) একটি উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের লেখা একটি প্রবন্ধের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে যে এই চুক্তির মাধ্যমে সরকার একটি রূপান্তরকারী সমঝোতা বাস্তবায়ন করেছে, যা বাজার সম্প্রসারণ করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভারতের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা করবে।

প্রবন্ধে পীযূষ গোয়াল উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির অর্থনৈতিক কূটনীতিতে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই চুক্তির ফলে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশের যুবসমাজ ও কৃষকদের জন্য ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে, যারা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।

বিশ্বের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই চুক্তি এখন পর্যন্ত স্বাক্ষরিত বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তিগুলোর একটি। এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তিই নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি বিস্তৃত অংশীদারিত্ব। এই এফটিএ দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও নাগরিককে উপকৃত করবে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।চুক্তিটি নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, যা ভারতকে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্টার্টআপ এবং শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।বিশ্বব্যাপী এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে প্রশংসা করা হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাসের এই অস্থির সময়ে এটি এক স্বস্তির বার্তা বহন করছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও ইইউ নিজেদেরকে উন্মুক্ত বাজার, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে গোয়াল উল্লেখ করেছেন।

এই এফটিএর মাধ্যমে বাণিজ্য মূল্যের নিরিখে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশেরও বেশি রপ্তানির জন্য নজিরবিহীন বাজার সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে শক্তিশালী করবে। টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, জুতো, সামুদ্রিক পণ্য, রত্ন ও গয়না, হস্তশিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং অটোমোবাইলের মতো শ্রমনির্ভর খাতগুলিতে এই চুক্তি বড়সড় গতি আনবে।

প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় রপ্তানির উপর ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। এই চুক্তি শ্রমিক, কারিগর, নারী, যুবসমাজ ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে ক্ষমতায়িত করবে এবং ভারতীয় ব্যবসাগুলিকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে।এছাড়াও ব্যবসায়ী ও পেশাদারদের চলাচল সহজ হবে এবং শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা ও কম্পিউটার পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এই প্রতিশ্রুতিগুলি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং প্রতিভা, উদ্ভাবন ও টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে বলে প্রবন্ধে বলা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment