নয়াদিল্লি, ১৪ ফেব্রুয়ারি: দেশের প্রতিরক্ষা ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করতে জাতীয় সড়কের উপর ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (ELF) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রায় ২৮টি ইএলএফ নির্মাণের কাজ চলছে, যা যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে ভারতীয় বায়ুসেনার বিকল্প অপারেশনাল ঘাঁটি হিসেবে কাজ করবে।
শনিবার অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম হাইওয়ে-ভিত্তিক ইএলএফ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এই অঞ্চলে মোরান এয়ারস্ট্রিপ ভারতীয় বায়ুসেনার কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ইএলএফ প্রকল্পের লক্ষ্য হল এমন একটি বিকেন্দ্রীকৃত বিমান অবতরণ নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে শত্রুপক্ষ প্রধান এয়ারবেসে আঘাত হানলেও বায়ুসেনার অভিযান বন্ধ না হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক যৌথভাবে সীমান্ত, উপকূল এবং সংবেদনশীল অঞ্চলের কাছে এসব এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করছে। রিইনফোর্সড কংক্রিট দিয়ে তৈরি এই হাইওয়ে এয়ারস্ট্রিপ ৭৪ টন ওজনের পরিবহণ বিমান পর্যন্ত বহন করতে সক্ষম এবং যুদ্ধবিমানের আফটারবার্নারের তাপ সহ্য করতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে এই এয়ারস্ট্রিপগুলি দ্রুত সেনা মোতায়েন, অস্ত্র ও সরঞ্জাম নামানো এবং পুনরায় উড্ডয়নের সুযোগ করে দেবে। প্রয়োজনে মোবাইল রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে এগুলি অস্থায়ী কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, মোরান স্ট্রিপ জরুরি অবস্থায় চাবুয়া এয়ার ফোর্স স্টেশন ও ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
শুধু যুদ্ধ নয়, বন্যা বা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও এই ইএলএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রচলিত বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাইওয়ে এয়ারস্ট্রিপের মাধ্যমে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, এই উদ্যোগ ভারতের এয়ারপাওয়ার নীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বায়ুসেনাকে আরও টিকে থাকার সক্ষমতা, নমনীয়তা ও কার্যকারিতা দেবে।
