তেল আভিভ — ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আকাশপথে হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিল ভারতীয় দূতাবাস।
তেল আভিভে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইজরায়েলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিককে সব সময় সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। ইজরায়েল প্রশাসন ও হোম ফ্রন্ট কমান্ড যে নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করেছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক যেন নির্ধারিত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকেন এবং নিজের বসবাস বা কর্মস্থলের নিকটতম সুরক্ষিত স্থানের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদ, সরকারি ঘোষণা ও জরুরি সতর্কবার্তার উপর নিয়মিত নজর রাখার কথাও বলা হয়েছে।
দূতাবাস আশ্বাস দিয়েছে, পরিস্থিতির উপর তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ জারি করা হবে। জরুরি প্রয়োজনে চব্বিশ ঘণ্টার সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সতর্কবার্তা জারি হয়েছে তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর। ইজরায়েলের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধমূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জোমহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে পাস্তুর স্ট্রিট সংলগ্ন অঞ্চল থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ওই এলাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন রয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ইজরায়েল ও ইরান উভয় দেশই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরমাণু চুক্তি ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারত সরকার। ইজরায়েলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে কূটনৈতিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।
