ওয়াশিংটন, ১৯ ফেব্রুয়ারি: পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের একটি প্রতিনিধি দল। সম্প্রসারিত তহবিল সহায়তা কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন এবং স্থিতিস্থাপকতা ও স্থায়িত্ব সহায়তা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের পর্যালোচনাই হবে এই সফরের মূল লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের যোগাযোগ অধিকর্তা জুলি কোজাক এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আমাদের একটি কর্মী দল পাকিস্তান সফর করবে। সেখানে সম্প্রসারিত তহবিল সহায়তা কর্মসূচির তৃতীয় পর্যালোচনা এবং স্থিতিস্থাপকতা ও স্থায়িত্ব সহায়তা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা হবে।’
তার কথায়, এই কর্মসূচির আওতায় নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রসারিত তহবিল সহায়তা কর্মসূচির অধীনে পাকিস্তানের নীতিগত প্রচেষ্টা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে এবং আস্থা পুনর্গঠনে সাহায্য করেছে।’
আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে পাকিস্তান মোট দেশজ উৎপাদনের ১.৩ শতাংশ প্রাথমিক আর্থিক উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে, যা কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধির চাপও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ অর্থবর্ষে ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত নথিভুক্ত করেছে পাকিস্তান।
শুধু আর্থিক সূচক নয়, প্রশাসনিক সংস্কারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শাসনব্যবস্থা ও দুর্নীতি সংক্রান্ত নির্ণায়ক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। সেখানে কর কাঠামো সহজ করা, সরকারি ক্রয়ে সমতা আনা এবং সম্পদ ঘোষণার স্বচ্ছতা বাড়ানোর মতো প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের এই সফরে আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, মূল্যবৃদ্ধি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক খাতের স্থিতি এবং কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে। নির্ধারিত সূচক পূরণ হলে পরবর্তী অর্থসাহায্য ছাড়ের পথও সুগম হবে।
গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির চাপে পাকিস্তান একাধিকবার আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের সহায়তার উপর নির্ভর করেছে। দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের শর্তে এই সহায়তা দেওয়া হয় এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়।
