28 C
Kolkata
March 15, 2026
দেশ

গাজিয়াবাদের যুবক হরিশ রানার ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত প্যাসিভ ইউথানেশিয়া

গাজিয়াবাদের রাজেন্দ্র এক্সটেনশনের ফ্ল্যাটে আজ ভেঙে পড়ার মতো নিস্তব্ধতা ছিল। বহু সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, দীর্ঘ ১৩ বছরের কষ্টের অধ্যায় শেষ হতে চলেছে হরিশ রানার জীবনে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ৩২ বছরের হরিশকে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে।

আজ শনিবার নয়াদিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে হরিশকে শেষ চুম্বন দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা নির্মলা দেবী। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে চোখের জল আটকে রাখতে পারলেন না বাবা অশোক রানা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এক ভিডিওতে শয্যাশায়ী হরিশের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে এক মহিলা বলছেন, “সবাইকে ক্ষমা কোরো, সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে চলে যাও।”

অশোক রানা বলেন, “৪৫৮৮ দিন ধরে এই যন্ত্রণা সহ্য করেছি, কিন্তু আজ ছেলেকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা আরও বেশি যন্ত্রণার।” এরপর হরিশকে নেওয়া হয় দিল্লি AIIMS-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে।

২০১৩ সালে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হরিশ তখন থেকে পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে ছিলেন। শুধুমাত্র টিউবের মাধ্যমে তরল খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ৩০ দিনের অপেক্ষার মেয়াদও মকুব করা হয়েছে। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

হরিশের পরিবার দীর্ঘ ১৩ বছরের আশা ও কষ্টের অবসান ঘটিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানিয়েছে।

Related posts

Leave a Comment