দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল (CM Discretionary Fund) অপব্যবহারের অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস নেতা Harak Singh Rawat। সোমবার তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার এই তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা শাসকদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিলি করছে।
উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের স্টেট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান রাওয়াত বলেন, তথ্যের অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া নথিতে দেখা গেছে যে মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলের বড় অংশ সাধারণ মানুষের কল্যাণে নয়, বরং নির্বাচিত কিছু জেলায় বিজেপি নেতাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে।
তার অভিযোগ, উদম সিং নগর ও চম্পাবত জেলায় বিজেপি নেতাদের মধ্যে নিয়মিত এই অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিজেপি নেতা সুবোধ মজুমদার, ভরত সিংহসহ কয়েকজন প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা করে পাচ্ছেন। এছাড়াও হায়াত সিংহ মেহরা-সহ আরও কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত চার লক্ষ টাকা করে পাঠানো হচ্ছে।
রাওয়াত বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল মূলত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
তিনি আরও দাবি করেন, আরটিআইয়ের নথিতে চম্পাবত জেলায় সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে তিন লক্ষ টাকা এবং ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করা এক ব্যক্তিকে দুই লক্ষ টাকা দেওয়ার তথ্য রয়েছে।
এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, যদি রাজ্যের সব জেলার তহবিল বিতরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়, তবে তা উত্তরাখণ্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে সামনে আসতে পারে।
এছাড়া কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করে রাওয়াত দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল নীতির কারণেই দেশে এলপিজি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, দেশে রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে সংকটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাওয়াত বলেন, ২০১৪ সালে ভারতের এলপিজি আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে জ্বালানি তেলের আমদানিও ৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
