আসন্ন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলেছে জিএসটি ২.০। নতুন এই কর কাঠামো সাধারণ ভোক্তা থেকে ব্যবসায়ী—সবার জন্যই সুবিধাজনক হবে বলে আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তাঁর দাবি, বিশেষত মধ্যবিত্ত পরিবারকে মাথায় রেখেই সংস্কার আনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর কথায়, “কর হ্রাসের সুফল অবশ্যই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছতে হবে। ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব থাকবে তা নিশ্চিত করার।” পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলিকেও কড়া নজরে রাখা হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
২০১৭ সালে চালু হওয়া জিএসটি নিয়ে শুরুর দিকে যেমন একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তেমনই সাধারণ মানুষের উপকারে তা খুব বেশি আসেনি বলে সমালোচনা চলেছিল নানা মহলে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, নয়া কাঠামোর ফলে বাজারে ভোগচাহিদা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির গতি ফের ত্বরান্বিত হবে।
কী থাকছে জিএসটি ২.০-তে?
নতুন ব্যবস্থায় মূলত দুইটি হার কার্যকর হবে—৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় একাধিক পণ্যে করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
- টুথপেস্ট, শ্যাম্পু, সাবান, বাসনপত্র ইত্যাদিতে মাত্র ৫% জিএসটি
- ছানা, পনির, চাপাটি প্রভৃতিতে কোনও জিএসটি থাকবে না
- জনপ্রিয় খাদ্যদ্রব্য যেমন নুডলস, সস, চকলেট, কফি, কর্নফ্লেক্সেও হার নামছে ১২ বা ১৮ শতাংশ থেকে নেমে ৫ শতাংশে
এছাড়াও দামি বৈদ্যুতিন পণ্য, ছোট গাড়ি ও বাইকের উপর জিএসটি ২৮ থেকে ১৮ শতাংশে নামানো হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্তের পাশাপাশি উচ্চবিত্তেরও সাশ্রয় হবে। জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামেও জিএসটি শূন্যে নামছে—এক দাবি যা প্রথম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছিলেন।
জিএসটি ৩.০-র ইঙ্গিত
একটি সাক্ষাৎকারে নির্মলা সীতারমণ জানান, ২.০ সংস্কার প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ভবিষ্যতের জিএসটি ৩.০-তে স্বচ্ছতা ও সরলতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। কাঠামো একই থাকলেও কিছু নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
