17 C
Kolkata
February 4, 2026
দেশ

‘গোদান’ ছবির টিমের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সাক্ষাৎ, মুক্তি পেল ট্রেলার

গো-সংরক্ষণ, ভারতীয় সংস্কৃতি ও পঞ্চগব্যভিত্তিক বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার উপর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গোদান’-এর প্রযোজক ও পরিচালক শনিবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই উপলক্ষে ছবিটির ট্রেলারও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ছবির প্রযোজক ও পরিচালক বিনোদ চৌধুরী বলেন, দেশের মধ্যে গোরক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃত, বাস্তবসম্মত ও তৃণমূল স্তরের কাজ হয়েছে উত্তরপ্রদেশে, যা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের স্পষ্ট দৃষ্টি ও দৃঢ় নেতৃত্বের ফল। এই কাজই তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে অনুপ্রাণিত করেছে।

যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গোরু পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যাপক গ্রেপ্তার হয়েছে। গোরক্ষার প্রতি তাঁর আন্তরিকতা প্রমাণ করে গত নয় বছরে রাজ্যজুড়ে ৭,৫০০-র বেশি গো-আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২ লক্ষেরও বেশি আশ্রয়হীন গবাদিপশুকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। গোরক্ষা আরও মজবুত করতে প্রতিটি জেলায় গোরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে জেলা শাসক ও এসএসপিদের নোডাল অফিসার করা হয়েছে। বিনোদ চৌধুরী প্রযোজিত ও পরিচালিত ‘গোদান’ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে মুক্তি পেতে চলেছে। এই ছবি শুধুমাত্র একটি কাহিনি নয়, বরং গোরক্ষা, ভারতীয় সংস্কৃতি, বৈজ্ঞানিক সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে গোরক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর কাজ উত্তরপ্রদেশেই হয়েছে। গো-আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি, আশ্রয়হীন গবাদিপশুর দেখভাল, পাচারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা—সবই মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, গরু শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং বৈদিক যুগ থেকে ভারতীয় সভ্যতার সাংস্কৃতিক আত্মা। কামধেনুর কাহিনি থেকে আজ পর্যন্ত গরু মানবসমাজকে লালন করে এসেছে। তরুণ প্রজন্ম ক্রমশ গরুর গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দুধ দেওয়া বন্ধ হলে গরুকে পরিত্যাগ করা হয়, অথচ গোরক্ষা শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

ছবিতে পঞ্চগব্যের মাধ্যমে জীবনের পাঁচটি রূপান্তরের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার ইতিবাচক প্রভাব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিনোদ চৌধুরী ছবিটিকে করমুক্ত করার আবেদনও জানান এবং বলেন, এই ছবি কোনও একক জাতি বা ধর্মের নয়, বরং সকল নাগরিকের জন্য। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিনোদ চৌধুরী, শান্তনু শুক্লা, ডা. কপিল ত্যাগী ও নবল কিশোর। গোরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান শ্যাম বিহারী গুপ্ত বলেন, কৃষি, প্রকৃতি ও মানবজীবনের জন্য গরু এক অমূল্য আশীর্বাদ এবং যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশে গোরক্ষায় অভূতপূর্ব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment