দেশে এই প্রথমবার ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটার ভাবনা শুরু করল ভারতের দুই রাজ্য— গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মডেলের অনুকরণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, সমাজমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ, একাকীত্ব, আচরণগত সমস্যা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
গোয়ার পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রোহন খাউন্টে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্রমাগত অভিযোগ আসছে যে সমাজমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। শুধু পড়াশোনা নয়, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁর কথায়, ‘শিশুদের জীবনে সমাজমাধ্যম একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ— তিন স্তরেই এর প্রভাব স্পষ্ট।’
এই পরিস্থিতিতেই গোয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সিদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করার জন্য পৃথক আইন আনার কথা ভাবছে। রোহন খাউন্টে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মডেল অনুসরণ করে এমন একটি আইন তৈরি হতে পারে, যেখানে ১৬ বছরের নীচে থাকা ব্যবহারকারীদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার আইনি ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা ও গঠনমূলক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের।
গোয়ার তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবের আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সবন্তের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে আগামী বিধানসভা অধিবেশনে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক মহল থেকে।
গোয়ার পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর নেতৃত্বাধীন সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বলে সূত্রের খবর। শিক্ষা ও শিশু সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বে নজির গড়েছে। সেখানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্মে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হয়। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির একাংশ সমালোচনাও করেছে।
ভারতের দুই রাজ্যের এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিলে, দেশের সমাজমাধ্যম নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষাজীবন ও সামাজিক বিকাশ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহল।
