মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযান শেষের পথে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দামে বড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৮.১৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৭.৮৪ ডলারে নেমে আসে। ভারতীয় বাজারে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা Multi Commodity Exchange of India (এমসিএক্স)-এ মার্চ চুক্তিতে অশোধিত তেলের দাম ৭১৯ টাকা কমে যায়।
একইভাবে এমসিএক্সে এপ্রিল চুক্তিতে তেলের দাম ৫৩১ টাকা বা প্রায় ৬.২১ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০১৭ টাকায় দাঁড়ায়। এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সোমবার মার্চ চুক্তিতে তেলের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫৪৯ টাকা বা ১১৪.৮৪ ডলারে পৌঁছেছিল। পরে সেই দাম প্রায় ১৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৭৮৮ টাকায় নেমে আসে।
বিশ্ববাজারে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য West Texas Intermediate (ডব্লিউটিআই) অশোধিত তেলের দামও ৬.৬৫ ডলার বা ৭.০২ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৮.১২ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই বাজারে ঝুঁকি কমেছে। তারই প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ অভিযান শেষের দিকে। তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় যুদ্ধ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ওদের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনীও নেই।”
তবে যুদ্ধ শেষ হলে ইরানের তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ কি আমেরিকা নেবে— এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই বিষয়ে এখনই আলোচনা করতে চান না, যদিও অনেকেই এই নিয়ে আলোচনা করছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে Strait of Hormuz দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল নিরাপদ রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন করার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, প্রয়োজনে কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে Group of Seven (জি৭) দেশগুলির অর্থমন্ত্রীদের গোষ্ঠী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমতে পারে।
