মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি প্রার্থীরা যদি পুরসভা নির্বাচনের আগেই ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জয়ী হন, তবে সেই বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করা দ্বিচারিতা। ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে তিনি কংগ্রেস আমলের উদাহরণ টেনে আনেন।
মঙ্গলবার ধুলে জেলায় এক নির্বাচনী কর্মসূচিতে ভাষণ দিতে গিয়ে ফডণবীস বলেন, “এখন আমাদের কর্পোরেটররা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতেই কারও কারও কান্নাকাটি শুরু হয়েছে। ‘তোমাদের মিরচি লাগলে আমি কী করব?’ কংগ্রেস আমলে লোকসভায় ৩৫ জন সাংসদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে ৩৩ জনই ছিলেন কংগ্রেসের। তখন কি গণতন্ত্র মরেনি? ধুলেতে মানুষ চারজন কর্পোরেটরকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতিয়েছে বলে কি এখন গণতন্ত্র খুন হয়ে গেল?”
এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চবন, শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি-র লোকসভা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এবং মহারাষ্ট্র আম আদমি পার্টি দাবি করে যে, ১৫ জানুয়ারির আগে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতির ৬৮ জন প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
পৃথ্বীরাজ চবন বলেন, “বিজেপি-নেতৃত্বাধীন মহাযুতি প্রার্থীদের তথাকথিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিয়ে সর্বত্র ক্ষোভ রয়েছে। হুমকি ও ঘুষের মাধ্যমে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। কোলাবায় বিরোধী প্রার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন বাতিলের দাবিও আমি তুলেছি। এতজন প্রার্থী কীভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতল, তার তদন্ত জরুরি।”
সুপ্রিয়া সুলে বলেন, “এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। যে দলই হোক, এতজন প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় কল্পনাতীত। কেবল রিপোর্ট চেয়ে সত্য বেরোবে না, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দরকার জনআস্থা ফেরাতে।”
আম আদমি পার্টির মুখপাত্র মুকুন্দ কিরদাত পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুরনিগমের ভোঁসরি ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী রবী ল্যান্ডগের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “৬৮ জন প্রার্থী স্বেচ্ছায় মনোনয়ন তুলে নিয়েছেন—এটা বিশ্বাস করা কঠিন। হুমকি বা আর্থিক প্রলোভন ছিল কি না, তা প্রমাণ করার দায় নির্বাচন কমিশনের।” তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী প্রার্থীদের ফোন রেকর্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখারও দাবি জানান।
