ইরান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী-তে চাপ বাড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর প্রভাব পড়েছে ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দামে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার।
নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, আগামী মাস থেকে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল সরবরাহ বাধ্যতামূলক করা হবে। এই মর্মে তেল সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইথানল মিশ্রণের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী জানান—
- বর্তমানে পেট্রলের সঙ্গে ২০% ইথানল মেশানো হচ্ছে
- আগামী ৪ বছরের মধ্যে তা ৩০% পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে
- এতে জ্বালানি খরচ কমানো ও আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করা সম্ভব
🌍 যুদ্ধের প্রভাব ও কেন্দ্রের আশ্বাস
ইরান-কে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে—
- দেশে ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে
- বিকল্প উৎস থেকেও সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, সাধারণ মানুষ যাতে জ্বালানি সংকটে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
📉 শুল্ক কমালেও কতটা স্বস্তি?
কিছুদিন আগেই পেট্রল ও ডিজেলের উপর লিটারপ্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে—
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেশি থাকায়
- এই ছাড়ের পুরো সুবিধা সাধারণ মানুষ নাও পেতে পারেন
- তেল সংস্থাগুলিই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এর বড় অংশ ব্যবহার করতে পারে
⚠️ বাস্তব চিত্র কী বলছে?
যদিও সরকার জ্বালানি সংকটের খবর অস্বীকার করছে, তবুও—
- বহু জায়গায় পেট্রল পাম্পে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে
- LPG সরবরাহ এখনও সব জায়গায় স্বাভাবিক হয়নি
🤔 ইথানল পেট্রল নিয়ে দ্বিধা
ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—
- ✔️ দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা
- ❗ তবে অনেকে আশঙ্কা করছেন, এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি বাড়তে পারে
সব মিলিয়ে, বিশ্ব পরিস্থিতির চাপের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করা হচ্ছে।
