কলকাতা—কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন প্রক্রিয়া (এসআইআর)-এ বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়া কোনও ওবিসি শংসাপত্র আর এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
এই মর্মে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নির্দেশ পাঠিয়েছে কমিশন।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজ্যে যে সব ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সেগুলি বাতিল হয়েছে। সেই সমস্ত বাতিল ওবিসি শংসাপত্র এসআইআর-এর কোনও স্তরেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভোটার তালিকার সংশোধন, শুনানি বা নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ওই শংসাপত্র ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।তবে একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় জট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
হাই কোর্টের নির্দেশে চিহ্নিত ৬৪টি ওবিসি ক্যাটাগরিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এই ৬৪টি ক্যাটাগরিকে মান্যতা দিয়েছে। সেই রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই ৬৪টি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ওবিসি শংসাপত্রই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বৈধ প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে।কমিশনের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কোনও বাতিল শংসাপত্র গ্রহণ করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই জেলা স্তরে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনওভাবেই বাতিল ওবিসি শংসাপত্র এসআইআর-এর কাজে ব্যবহার না করা হয়।
পাশাপাশি, বৈধ ৬৪টি ক্যাটাগরির আওতায় থাকা নাগরিকদের যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই নথি সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার মধ্যেই ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে এই স্পষ্ট নির্দেশ আসায় অনেকটাই অনিশ্চয়তা কাটল বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। কমিশনের আশা, এই সিদ্ধান্তে এক দিকে যেমন আদালতের নির্দেশ মানা হবে, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজও আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত গতিতে এগোবে।
